১২ মে ২০১৮: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ — মহাকাশে বাংলাদেশ

- বাংলাদেশ সময় ১২ মে ভোর (যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় ১১ মে বিকেল) উৎক্ষেপণ, কেপ ক্যানাভেরাল/কেনেডি স্পেস সেন্টার
- স্পেসএক্স ফ্যালকন ৯ ব্লক-৫: নতুন নকশার ফ্যালকন ৯-এর প্রথম মিশন
- তালেস অ্যালেনিয়া স্পেস নির্মিত ~৩,৫০০ কেজি উপগ্রহ; ১১৯.১° পূর্ব স্লটে স্থাপিত
- ৪০টি ট্রান্সপন্ডার (১৪ সি-ব্যান্ড + ২৬ কু-ব্যান্ড); পরিকল্পিত আয়ু ১৫ বছর
মহাকাশে বাংলাদেশের নিজস্ব উপগ্রহ পাঠানোর স্বপ্ন পূরণ হয় ২০১৮ সালের মে মাসে। ১২ মে ভোরে (বাংলাদেশ সময়), যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা প্রদেশের কেপ ক্যানাভেরাল পার্শ্ববর্তী কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ কমপ্লেক্স ৩৯-এ থেকে উৎক্ষিপ্ত হয় বাংলাদেশের প্রথম ভূ-স্থির যোগাযোগ উপগ্রহ — বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১।
উৎক্ষেপণের বিবরণ
আগের দিন ১০ মে উৎক্ষেপণের বহু চেষ্টা করতে হয়েছিল; রকেটের টার্মিনাল কাউন্টডাউনে টি-৫৮ সেকেন্ডে স্বয়ংক্রিয় বাতিল হয়। একদিন পর ১১ মে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ১৪ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় পরের দিন ভোর ২টা ১৪ মিনিট) রকেটটি সফলভাবে উড়ে যায়। নির্মাণ করেছিল ফরাসি-ইতালীয় মহাকাশ সংস্থা তালেস অ্যালেনিয়া স্পেস; নির্মিত উপগ্রহটির ওজন ছিল প্রায় ৩,৫০০-৩,৭০০ কিলোগ্রাম।
ফ্যালকন ৯ ব্লক-৫
মিশনটিতে স্পেসএক্সের নতুন প্রজন্মের রকেট ফ্যালকন ৯ ব্লক-৫-এর প্রথম পরীক্ষা হয় — সেই রকেট যা পরে বিশ্বের সবচেয়ে ঘন ঘন ব্যবহারযোগ্য লঞ্চার হয়ে ওঠে। উপগ্রহটি ১১৯.১° পূর্ব দ্রাঘিমাংশের ভূ-স্থির কক্ষপথে স্থাপিত হয়; এতে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার রয়েছে (১৪টি সি-ব্যান্ড, ২৬টি কু-ব্যান্ড), যা টেলিভিশন সম্প্রচার, ইন্টারনেট ও ভিডিও কনফারেন্সিং সেবা দিতে সক্ষম।
জাতীয় তাৎপর্য
এই উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব রকেটে নিজস্ব উপগ্রহ পরিচালনা শুরু করে। সরকার আশা প্রকাশ করে, উপগ্রহটি টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার খাতে বছরে হাজার কোটি টাকার রিজার্ভ সাশ্রয় করবে। ২০২৩ সালে এটি ‘বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১’ নামে পুনঃনামকরণ হয় এবং এটির কার্যক্রম পরিচালনা করে বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড।
সূত্র: উইকিপিডিয়া, স্পেসএক্স (মিশন পেজ), স্পেস নিউজ।
প্রশ্নোত্তর
উৎক্ষেপণ কোথায় হয়েছিল?
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরালের কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে, স্পেসএক্সের লঞ্চ কমপ্লেক্স ৩৯-এ থেকে।
উপগ্রহ কোন اقتدارে পাঠানো হয়?
ফ্যালকন ৯ ব্লক-৫ রকেটের প্রথম পরীক্ষামূলক নৌযান হিসেবে; এটি বাংলাদেশকে ৫৭তম দেশ করে তোলে যারা নিজস্ব রকেটে নিজস্ব উপগ্রহ পরিচালনা করে।