ইতিহাসনিশ্চিত [B]

বার্লিন প্রাচীরের পতন ১৯৮৯: ভুল বোঝার বুর্জে না-করা কল্পনায় ২৮ বছর পর জনস্রোত

1 মিনিট পাঠ
বার্লিন প্রাচীরের পতন ১৯৮৯: ভুল বোঝার বুর্জে না-করা কল্পনায় ২৮ বছর পর জনস্রোত — ছবি: Berlin.de — The opening and fall of the Berlin Wall (9 Nov 1989)
বার্লিন প্রাচীরের পতন ১৯৮৯: ভুল বোঝার বুর্জে না-করা কল্পনায় ২৮ বছর পর জনস্রোত — ছবি: Berlin.de — The opening and fall of the Berlin Wall (9 Nov 1989)
এক নজরে
  • ৯ নভেম্বর ১৯৮৯ সালে পূর্ব জার্মানির মুখপাত্র ভুল ঘোষণায় সীমান্ত নিয়ম শিথিল হচ্ছে বলে বোঝান
  • ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই বর্নহলমার স্ট্রাস চেকপয়েন্টে জনতা জড়ো হয়; প্রহরীরা খাটিয়ে দেন অতিরিক্ত সময়ে প্রবেশ
  • এক রাতে প্রায় ২০ হাজার মানুষ পশ্চিম বার্লিনে ঢুকে পড়ে; পরের সপ্তাহগুলোতে প্রাচীর ভাঙা শুরু হয়
  • প্রাচীরটি ১৯৬১ সালের ১৩ আগস্ট থেকে দাঁড়িয়ে ছিল; এর পতন শীতল যুদ্ধের সমাপ্তির প্রতীক হয়ে ওঠে

১৯৮৯ সালের ৯ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পূর্ব জার্মানির সরকারি মুখপাত্র গুন্টার শাবোভস্কি সংবাদ সম্মেলন ডাকেন। নতুন ভ্রমণ নিয়মের খসড়া হাতে পেয়েই তিনি অস্পষ্টভাবে বলেন যে সীমান্ত দিয়ে যাওয়া এখন সবার জন্য মুক্ত হবেই সম্ভব। পত্রিকার সাংবাদিকেরা জিজ্ঞেস করেন, এটি কখন থেকে কার্যকর? উত্তরে শাবোভস্কি বলেন, যতদূর আমি জানি, এখনই।

জনতার ঢল

খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাজার হাজার মানুষ সীমান্ত চেকপয়েন্টে ভিড় জমায়। বর্নহলমার স্ট্রাসের প্রহরী সৈন্যরা প্রথমে লোকজনের উপর নির্দেশ ব্যবহারের চেষ্টা করেন, কিন্তু জনতার চাপে শেষ পর্যন্ত খাটিয়ে দেন বাধা। মধ্যরাতের ঠিক আগে লাখে লাখে পূর্ব জার্মানবাসী হাততালি আর কান্নার মধ্যে পশ্চিম বার্লিনে ঢুকে পড়েন। এক রাতেই প্রায় ২০ হাজার মানুষ নতুন আনন্দে পশ্চিম পাড়ায় প্রবেশ করেন।

প্রাচীরের জীবনের শেষদিন

১৯৬১ সালের ১৩ আগস্ট থেকে ব্র্যান্ডেনবার্গ গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ১৫৫ কিলোমিটার প্রাচীর — চেকপয়েন্ট টাওয়ার, কাঁটাতার ও প্রহরী টহল — এক রাতেই অচলিং হয়ে যায়। পরের দিনগুলোতে জনতা হাতুড়ি দিয়ে প্রাচীর ভাঙতে শুরু করে; স্মৃতিচিহ্ন ও পর্যটকদের ভিড়ে প্রাচীরের অংশ বিক্রি ও সংগ্রহে রীতিমতো উৎসব হয়।

বিশ্বে প্রভাব

বার্লিন প্রাচীরের পতন শীতল যুদ্ধের সমাপ্তির জন্য একটি মাইলফলক। ১৯৯০ সালের অক্টোবরে আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানি এক হয়ে যায়। ইউরোপের অন্য দেশগুলোতেও একে কেন্দ্রীয় ইউরোপের গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

উত্তরাধিকার

আজ প্রাচীরের ধ্বংসাবশেষ শহরের জাদুঘর ও স্মৃতিস্থলে রক্ষিত; ইস্ট সাইড গ্যালারির রঙিন চিত্রিত অংশ পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। বার্লিন প্রাচীরের পতন মানবস্বাধীনতার সংগ্রামের ইতিহাসে চিরন্তন উদাহরণ।

সূত্র: বার্লিন প্রশাসন, বিবিসি, উইকিপিডিয়া।

প্রশ্নোত্তর

বার্লিন প্রাচীর কেন তৈরি হয়েছিল?

১৯৬১ সালে পূর্ব জার্মানি জনবহুল নাগরিকদের পশ্চিমে পালানো রোধে শহরের মাঝ বরাবর প্রাচীর নির্মাণ করে; এটি 'আয়রন কার্টেন'-এর প্রতীক হয়ে ওঠে।

প্রাচীর পতনের পর পূর্ব-পশ্চিমের মানুষ কখন এক হতে পেরেছিল?

গোড়ার দিকে সীমান্ত খুলে যাওয়ার কয়েক দিনেই লক্ষাধিক বাসিন্দা ও পর্যটক দুপার ঘুরে দেখেন; এক বছর পর জার্মানি আনুষ্ঠানিকভাবে একীভূত হয়।