ইতিহাসনিশ্চিত [B]

৭ মার্চের ভাষণ (১৯৭১): বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ঘোষণা ও স্বাধীনতার সঙ্কেত

1 মিনিট পাঠ
৭ মার্চের ভাষণ (১৯৭১): বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ঘোষণা ও স্বাধীনতার সঙ্কেত — ছবি: UNESCO — Memory of the World: Historic 7th March Speech of Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman
৭ মার্চের ভাষণ (১৯৭১): বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ঘোষণা ও স্বাধীনতার সঙ্কেত — ছবি: UNESCO — Memory of the World: Historic 7th March Speech of Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman
এক নজরে
  • ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এক বিশাল সমাবেশে ভাষণ দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  • ১৯ মিনিটের স্বতঃস্ফূর্ত ভাষণে প্রস্তুতির আহ্বান ও স্বাধীনতার প্রেরণা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে
  • ভাষণটি প্রায় ৩ হাজার রেকর্ডে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়; পরে প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ধারাবাহিকে অন্তর্ভুক্ত হয়
  • ২০১৭ সালে ভাষণটি ইউনেস্কোর মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড তালিকাভুক্ত হয়

১৯৭১ সালের ১ মার্চ ইয়াহিয়া খান ঘোষিত জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করা হয়, যা পূর্ব পাকিস্তানে বিশাল রাজনৈতিক সঙ্কট তৈরি করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগ ও সংগঠনসমূহের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেন যে ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বিশাল সমাবেশ ডাকা হবে।

বিশাল সমাবেশ

৭ মার্চ দুপুরের মধ্যে ময়দান জনসমুদ্রে পরিণত হয়; আনুমানিক ১০ লাখ মানুষ ভাষণ শুনতে জড়ো হন। কোনো লিখিত স্ক্রিপ্ট ছাড়াই প্রায় ১৯ মিনিটের স্বতঃস্ফূর্ত ভাষণে বঙ্গবন্ধু ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ — এই ঘোষণা উচ্চারণ করেন এবং ঘর-ও-মাটি শত্রুর হাতে তুলে না দেওয়ার আহ্বান জানান।

রেকর্ড ও প্রচার

পাকিস্তান সরকার বেতারে সরাসরি সম্প্রচার না করলেও চিত্রগ্রাহক ও ধ্বনিরেকর্ড দল ভাষণটি চিত্রায়িত করে। আর্কাইভে রাখা এই উপাদান পরে পাকিস্তান ফিল্ম কর্পোরেশন ও ফিল্ম আর্কাইভ থেকে উদ্ধার করে সংরক্ষণ করা হয়; কয়েক হাজার রেকর্ড ও ক্যাসেটে ভাষণ দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।

ইউনেস্কোর স্বীকৃতি

২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর ইউনেস্কো ভাষণটিকে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ তালিকাভুক্ত করে, যা এশিয়া ও প্রশান্ত অঞ্চলে তালিকাভুক্ত প্রথম ভাষণ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ভাষণকে বিবেচনা করা হয় স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেরণা ও ইতিহাস-নির্ভর প্রামাণ্য দলিল।

পাঠ

৭ মার্চের ভাষণ কেবল একটি বক্তৃতা নয়; এটি একটি জাতির স্বাধীনতার চূড়ান্ত ঘোষণাপথের সাক্ষী। ভাষণের শব্দ ও সুর মানুষের হৃদয়ে গেঁথে থাকে এবং মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালে স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্মের পথ প্রশস্ত করে।

সূত্র: ইউনেস্কো, বাংলাপিডিয়া, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, উইকিপিডিয়া।

প্রশ্নোত্তর

৭ মার্চের ভাষণ কীভাবে ধারণ করা হয়েছিল?

পাকিস্তান সরকারের বেতার সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের পূর্বসূরি সংস্থার ক্যামেরাম্যান দল চিত্র ও ধ্বনি রেকর্ড করে রাখে; পরে রেকর্ড ও চলচ্চিত্রে তা সাড়া বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

ভাষণটি কোথায় দেওয়া হয়েছিল?

ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) প্রায় ১০ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে, পূর্ব পাকিস্তান সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের ডাকা সমাবেশে।