অস্ট্রেলিয়ার দাবানল ২০২০: 'ব্ল্যাক সামার'-এ ৩৩ প্রাণ ও বিলিয়ন প্রাণীর ক্ষতি

- ২০১৯-২০ মৌসুমের 'ব্ল্যাক সামার'-এ দেশজুড়ে এক হাজারের বেশি দাবানল ছড়িয়ে পড়ে
- দেশের সর্বাধিক ২৪ লাখ হেক্টর বন ও ভূমি পুড়ে যায়; ৩,০০০-এর বেশি ভবন ধ্বংস হয়
- ৩৩ জনের সরাসরি এবং ধোঁয়াজনিত রোগে আরও ৪০০-এর বেশি মৃত্যু হয় বলে অনুমান
- প্রায় ৩ বিলিয়ন প্রাণী আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বা মারা যায়; কোয়ালা ও ক্যাঙ্গারু আইল্যান্ডে বড় ক্ষতি হয়
২০১৯-২০ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ায় অতি তীব্র তাপপ্রবাহ ও দীর্ঘ খরার মধ্যে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়ে; এটি ‘ব্ল্যাক সামার’ নামে পরিচিত হয়ে যায়। দক্ষিণ-পূর্ব অস্ট্রেলিয়ার উপকূলীয় ও বনভূমি—প্রধানত নিউ সাউথ ওয়েলস ও ভিক্টোরিয়া—সেঁকেনির আগুনে একটানা জ্বলতে থাকে।
আগুনের মাত্রা
বিশেষজ্ঞদের হিসাবে দেশজুড়ে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ হেক্টর ভূমি পুড়ে যায়; নিউ সাউথ ওয়েলস একাই ৫২ লাখ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৩,০০০-এর বেশি ঘরবাড়ি ও ভবন ধ্বংস হয়। ৩৩ জনের সরাসরি প্রাণহানি ছাড়াও ধোঁয়া ও দূষণজনিত রোগে আরও ৪০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয় বলে অনুমান করা হয়।
বন্যপ্রাণীর ক্ষতি
জীববিজ্ঞানীরা হিসাব করেন, এই দাবানলে প্রায় ৩ বিলিয়ন প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত বা মারা যায়; কোয়ালা, ক্যাঙ্গারু ও স্থানীয় প্রজাতির পাখির সংখ্যাও ব্যাপক কমে যায়। ক্যাঙ্গারু আইল্যান্ড ও ব্লু মাউন্টেনসের বনঅগ্নিতে বিরল প্রজাতির টিকিয়ে রাখা প্রশ্নবোধক হয়ে ওঠে।
মানুষ ও অর্থনীতি
গ্রীষ্মের সৈকতপর্যটন থমকে যায়; সিডনি ও ক্যানবেরার মতো শহরগুলোতে ধোঁয়ায় বাতাসের মান অতি বিপজ্জনক হয়ে পড়ে সপ্তাহের পর সপ্তাহ। পর্যটন ও কৃষির ক্ষতি ধারণা করা হয় বহু বিলিয়ন ডলার। এগিয়ে যায় জলবায়ু সংকট ও অগ্নি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বড় বিতর্ক।
পাঠ
এই মহান দাবানল দেখায়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আরও ঘন ঘন ও ভয়ংকর হচ্ছে; অগ্নিনির্বাপণ ও বন ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ও সম্পদ বাড়ানোর প্রয়োজন সামনে আসে।
সূত্র: উইকিপিডিয়া, ডাব্লিউডাব্লিউএফ, জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট।
প্রশ্নোত্তর
এই দাবানল কেন এত বড় হয়ে গিয়েছিল?
রেকর্ড উচ্চ তাপমাত্রা, খরার পর দীর্ঘায়িত বাতাস ও আগে থেকে নিয়ন্ত্রণহীন ছোট আগুন; বিশেষজ্ঞদের মতে জলবায়ু পরিবর্তন এই পরিস্থিতি বাড়িয়ে দেয়।
দাবানলের প্রভাব কী হয়েছিল?
সিডনিসহ নিউ সাউথ ওয়েলসের বাসা-বাড়ি ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়; পর্যটন, শিল্পোৎপাদন ও বাস্তুতন্ত্রে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির পাশাপাশি ধোঁয়া দূষণে শহরগুলোর বাতাস বিষাক্ত হয়ে পড়ে।