ইতিহাসনিশ্চিত [B]

ঘূর্ণিঝড় নার্গিস ২০০৮: মিয়ানমারে ১ লাখ ৩৮ হাজার নিহত ও নিখোঁজ

1 মিনিট পাঠ
ঘূর্ণিঝড় নার্গিস ২০০৮: মিয়ানমারে ১ লাখ ৩৮ হাজার নিহত ও নিখোঁজ — ছবি: Jakub Hałun (BY-SA)
ঘূর্ণিঝড় নার্গিস ২০০৮: মিয়ানমারে ১ লাখ ৩৮ হাজার নিহত ও নিখোঁজ — ছবি: Jakub Hałun (BY-SA)
এক নজরে
  • ২ মে ২০০৮ ঘূর্ণিঝড় নার্গিস মিয়ানমারের ইরাবতী বদ্বীপে মহা বেগে আঘাত হানে; প্রায় ৪ মিটার জলোচ্ছ্বাস ওঠে
  • সরকারি হিসেবে ৮৪,৫৩৭ জন নিহত ও ৫৩,৮৩৬ জন নিখোঁজ—মোট ১ লাখ ৩৮ হাজারের বেশি
  • বিশ্বব্যাংক-জাতিসংঘের যৌথ মূল্যায়নে ক্ষতির পরিমাণ ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি
  • সামরিক সরকার বিদেশি ত্রাণ ও উদ্ধারকর্মীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়, ফলে ত্রাণ পৌঁছাতে দেরি হয়

২০০৮ সালের ২ মে মিয়ানমারের দক্ষিণ উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় নার্গিস। এটি ছিল দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ইরাবতী বদ্বীপের সমতল এলাকায় ঘণ্টায় ১৯০ কিলোমিটারের বেশি বেগে ঝড়ের সঙ্গে ৩.৬ থেকে ৪ মিটার উঁচু জলোচ্ছ্বাস ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত ভেতরে ঢুকে পড়ে।

প্রাণহানির মাত্রা

সরকারি হিসাবে এই ঝড়ে ৮৪,৫৩৭ জন নিহত ও ৫৩,৮৩৬ জন নিখোঁজ হয়; মোট নিহত ও নিখোঁজের সংখ্যা ১ লাখ ৩৮ হাজার ছাড়িয়ে যায়। জাতিসংঘের হিসাবে প্রায় ২.৪ মিলিয়ন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়; লাবুত্তা তাউনশিপের একক হিসাবে মৃতের সংখ্যা ৮০ হাজারে পৌঁছায়। বদ্বীপের প্রায় ৯৫ শতাংশ ভবন ধ্বংস হয়ে যায় বলে দাবি করা হয়। এই দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় ঘরে তৈরি কাঠের বাড়ি, মাছ ধরার নৌকা ও ধানখেতের।

ত্রাণের জটিলতা

সরকারি হিসাবে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি অনুমান করা হলেও জান্তা সরকার বিদেশি উদ্ধারকর্মী, পতন এবং সামরিক সহায়তা নিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ফলে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক উদ্ধার সংস্থাগুলোর ত্রাণ তৎপরতা ব্যাহত হয়; খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসা সংকট দীর্ঘায়িত হয়। সমালোচনার মুখে পরে জান্তা কিছু ত্রাণ কার্যক্রমের অনুমতি দেয়।

পাঠ

নার্গিস দেখিয়ে দেয়, ঘূর্ণিঝড়ে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি জলোচ্ছ্বাস আর নিচু উপকূলীয় সমভূমি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আগাম সতর্কতা, উঁচু আশ্রয়কেন্দ্র ও দ্রুত ত্রাণ সরবরাহ ব্যবস্থা কতটা জরুরি, তা এই দুর্যোগের বড় শিক্ষা।

সূত্র: রিলিফওয়েব, উইকিপিডিয়া, জাতিসংঘ যৌথ মূল্যায়ন।

প্রশ্নোত্তর

নার্গিস কেন এত প্রাণঘাতী ছিল?

ঘনবসতিপূর্ণ ইরাবতী বদ্বীপের সমতল নিচু এলাকায় ৩.৬-৪ মিটার উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত ঢুকে পড়ে; গড়ে নির্মিত কাঠের ঘরগুলো এক মুহূর্তেই ভেসে যায়।

ত্রাণ কার্যক্রমে বাধা ছিল কেন?

২০০৮ সালে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা বিদেশি উদ্ধারকর্মী ও সামরিক সহায়তা গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দেয়; পাসপোর্ট ও ভিসা জটিলতার কারণে ত্রাণ পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লাগে।