মন্টগোমারি বাস বয়কট (১৯৫৫-৫৬): রোজা পার্কস ও বাসে বর্ণবৈষম্যের অবসান

- ১ ডিসেম্বর ১৯৫৫ সালে রোজা পার্কস বাসে আসন ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়ে গ্রেফতার হন
- ফলে মন্টগোমারির কালো সম্প্রদায় ৫ ডিসেম্বর থেকে বাস বয়কট শুরু করে
- বয়কটটি ৩৮১ দিন চলে; এতে নেতৃত্ব দেন মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র
- ১৯৫৬ সালের নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে বাসে পৃথকীকরণ অসাংবিধানিক; ১৯৫৭ সালে এ রায় কার্যকর হয়
১৯৫৫ সালের ১ ডিসেম্বর আলাবামার মন্টগোমারি শহরে সিমস্ট্রেস রোজা পার্কস একটি সিটি বাসে চড়েন। কিছুক্ষণের মধ্যে বাসটি পূর্ণ হয়ে যায়; ড্রাইভার তাঁকে সাদা যাত্রীদের জন্য আসন খালি করতে বলে। রোজা পার্কস অস্বীকৃতি জানান এবং গ্রেফতার হন — এই এক ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার ইতিহাসকে বদলে দেয়।
বয়কটের সূচনা
রোজা পার্কসের গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে কালো নেতারা প্রতিবাদ শুরু করে; ৫ ডিসেম্বর থেকে মন্টগোমারি বাসে যাতায়াত বর্জন শুরু হয়। দীর্ঘদিন ধরে সংগঠিত এই আন্দোলনের নেতৃত্ব নেন তরুণ যাজক মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র, যিনি এমআইএ (ওয়েস্টেক—মোনগোমারি ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন) সভাপতি হন।
৩৮১ দিনের সংগ্রাম
দ্রুতগামী বাসের পরিবর্তে মানুষ কারপুল, হাঁটা বা সাইকেল নিয়ে আসা-যাওয়া করে; বয়কট দীর্ঘতর হলে কর্মসংস্থান ও সামাজিক চাপের মুখে হোয়াইট সিটিজেন’স কাউন্সিলসহ কিছু প্রতিক্রিয়াও হয় — কিন্তু নেতৃত্ব শান্তিপূর্ণ থাকার ওপর জোর দেয়। বয়কট ৩৮১ দিন চলে।
সুপ্রিম কোর্টের রায়
১৯৫৫ সালের শেষ থেকে মামলার ধারাবাহিকতায় ১৯৫৬ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট আনুষ্ঠানিকভাবে রায় দেয় যে বাসে পৃথকীকরণ অসাংবিধানিক; ডিসেম্বরে রায় কার্যকর হয়। প্রায় এক বছর বয়কটের পর মন্টগোমারিতে বাসে বর্ণবৈষম্যের অবসান ঘটে।
পাঠ
মন্টগোমারি বাস বয়কট নাগরিক অধিকার আন্দোলনের জন্য একটি মোড় ঘুরিয়ে দেয়; এটি প্রমাণ করে যে শান্তিপূর্ণ সহযোগিতায় গণআন্দোলন আনা যায়। রোজা পার্কস ও কিংয়ের নেতৃত্বের উত্তরাধিকার আজও সমতাসম্পন্ন সমাজ নির্মাণের স্বপ্নে প্রাসঙ্গিক।
সূত্র: জাতীয় আর্কাইভ, লাইব্রেরি অফ কংগ্রেস, উইকিপিডিয়া।
প্রশ্নোত্তর
রোজা পার্কস কেন গ্রেফতার হন?
১৯৫৫ সালের ১ ডিসেম্বর মন্টগোমারির বাসে তিনি সাদা যাত্রীর জন্য আসন ছাড়তে অস্বীকার করেন; তখনকার আইনে তা অপরাধ ধরা হতো।
বাস বয়কটের ফলাফল কী হয়েছিল?
১৯৫৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় বাসে পৃথকীকরণ অসাংবিধানিক; এটি নাগরিক অধিকার আন্দোলনের প্রথম বড় সাফল্য হয়।