কসোভো যুদ্ধ (১৯৯৯): ন্যাটোর বিমান অভিযান ও কসোভোর স্বাধীনতার পথ

- ১৯৯৮-৯৯ সালে কসোভোর ইউসি স্কোয়াড্রন সম্পর্কে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ব্যাপক নিপীড়নের চিত্র উঠে আসে
- ২৪ মার্চ ১৯৯৯ সালে ন্যাটোর ৭৮ দিনের বিমান অভিযান শুরু হয়
- ১০ জুন ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১২৪৪ প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতি ও প্রশাসন পরিকল্পনা অনুমোদিত হয়
- পরবর্তী মাসগুলোতে কসোভোর প্রায় ৮ লাখ উদ্বাস্তুর প্রত্যাবর্তন শুরু হয়; ২০০৮ সালে কসোভো স্বাধীনতা ঘোষণা করে
১৯৯০-এর দশকের শেষে যুগোস্লাভিয়ার অবশিষ্ট অঞ্চল কসোভোয় জাতিগত উত্তেজনা চূড়ায় পৌঁছে। আলবেনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী স্বায়ত্তশাসন ও পরে স্বাধীনতা চাইলে সার্বিয়া স্লোবোদান মিলোশেভিচের সরকার ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে থাকে।
কূটনৈতিক ব্যর্থতা
১৯৯৯ সালের শুরুর দিকে ফ্রান্সের রামবুইলেতে শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়; সার্বিয়া স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানায়। কসোভোয় সার্বিয়ার ক্রমবর্ধমান অভিযান নিয়ে জাতিসংঘের অনেক প্রস্তাব ভেটোপ্রদানের কারণে নিরাপত্তা পরিষদের মঞ্জুরি পাওয়া যায়নি। এরপর ন্যাটো নিজস্ব সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপের ঘোষণা দেয়।
৭৮ দিনের অভিযান
২৪ মার্চ ১৯৯৯ সালে ন্যাটোর অপারেশন অ্যালাইড ফোর্স শুরু হয়। যুগোস্লাভিয়ার সামরিক ঘাঁটিসহ সেতু, কারখানা ও টেলিভিশন ভবনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। আকাশ হামলার পাশাপাশি ভূমধ্যসাগর ও আলবেনিয়া সীমান্তে ন্যাটো কমান্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। ৭৮ দিন পর ৯-১০ জুন কুমানোভো সামরিক-প্রযুক্তিগত চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
জাতিসংঘের প্রশাসন
১০ জুন নিরাপত্তা পরিষদ ১২৪৪ প্রস্তাব পাস করে; কসোভোতে জাতিসংঘের প্রশাসন চালু হয় এবং ন্যাটোর নেতৃত্বে কেএফওআর শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করা হয়। সার্বিয়ার সেনা ও পুলিশ সরে যায়; লাখ লাখ উদ্বাস্তু ফিরে আসতে শুরু করে।
পাঠ ও বিতর্ক
কসোভো অভিযান প্রমাণ করে যে মানবিক বিপর্যয় রোধে সামরিক হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হলেও অনুমোদনহীন অভিযানকে অনেকেই মানবিক হস্তক্ষেপের পূর্বাভাস বলে গণ্য করেন। এ ঘটনা পশ্চিমা সামরিক সহযোগিতা, নিরাপত্তা চুক্তি ও আন্তর্জাতিক আইনের বারবার আলোচ্য বিষয় হয়ে থাকে।
সূত্র: ন্যাটো, উইকিপিডিয়া।
প্রশ্নোত্তর
ন্যাটো কেন হস্তক্ষেপ করেছিল?
কসোভোয় সার্বিয়ার অভিযান ও মানবিক বিপর্যয় রুখতে ন্যাটো নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়াই বিমান অভিযান শুরু করে, যা বিতর্কিত হয়।
যুদ্ধের পর কসোভোর অবস্থা কী হয়েছিল?
সার্বিয়ান সেনা প্রত্যাহারের পর জাতিসংঘ কসোভোতে প্রশাসন পরিচালনা শুরু করে; ২০০৮ সালে পার্লামেন্ট স্বাধীনতা ঘোষণা করে।