ইতিহাসনিশ্চিত [B]

কিউবা ক্ষেপণাস্ত্র সংকট (১৯৬২): তেরো দিনের পারমাণবিক দ্বন্দ্ব

1 মিনিট পাঠ
কিউবা ক্ষেপণাস্ত্র সংকট (১৯৬২): তেরো দিনের পারমাণবিক দ্বন্দ্ব — ছবি: Scottish Government (BY)
কিউবা ক্ষেপণাস্ত্র সংকট (১৯৬২): তেরো দিনের পারমাণবিক দ্বন্দ্ব — ছবি: Scottish Government (BY)
এক নজরে
  • ১৯৬২ সালের ১৬ অক্টোবর ইউ-২ গোয়েন্দা বিমানের ছবিতে কিউবায় মাঝারি পাল্লার সোভিয়েত ক্ষেপণাস্ত্রের নির্মাণ ধরা পড়ে
  • প্রেসিডেন্ট কেনেডি ২২ অক্টোবর জাতির উদ্দেশে ভাষণে নৌ অবরোধ ও কঠোর অবস্থানের কথা ঘোষণা করেন
  • তেরো দিন ধরে বিশ্ব পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল; গোপন কূটনৈতিক চুক্তিতে সোভিয়েত ক্ষেপণাস্ত্র সরানোর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র তুরস্ক থেকে ক্ষেপণাস্ত্র তুলে নেয়
  • দুই পরাশক্তির সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন ও তেজস্ক্রিয়া নিষিদ্ধকরণ চুক্তি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়া হয়

১৯৬২ সালের অক্টোবরে বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ পারমাণবিক সঙ্কটের মুখোমুখি হয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন কিউবার ভূখণ্ডে গোপনে মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বসানো শুরু করলে ১৬ অক্টোবর ইউ-২ গোয়েন্দা বিমানের তোলা ছবিতে নির্মাণকাজের প্রমাণ ফুটে ওঠে। আমেরিকান গোয়েন্দা সূত্র থেকে জানা যায়, এ লক্ষ্যে সোভিয়েত জাহাজ ও সেনাদের সরবরাহ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাড়ানো হয়েছে।

হোয়াইট হাউসে সঙ্কট

প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের গোপন বৈঠক ডাকেন। সামরিক বাহিনী কিউবায় বিমান হামলার বিকল্প প্রস্তাব করলেও কূটনৈতিক ও নৌ ব্যবস্থার বিকল্প এগিয়ে আসে। ২২ অক্টোবর কেনেডি জাতির উদ্দেশে বেতার-টেলিভিশন ভাষণে ঘোষণা করেন যে কিউবার প্রতি কোনো আক্রমণাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র কমলা রঙের চাহিদা অনুযায়ী পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি বহন করবে এবং নৌ বাহিনীকে অবরোধে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তেরো দিনের টানাবুনি

অবরোধের মধ্যেও সোভিয়েত জাহাজ এগিয়ে আসার খবরে উত্তেজনা চূড়ায় ওঠে, তবে শেষ মুহূর্তে জাহাজগুলো থেমে যায়। দুই নেতার মধ্যে গোপন চিঠি আদান-প্রদান চলতে থাকে; সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভ একপর্যায়ে ক্ষেপণাস্ত্র সরিয়ে নেওয়ার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চান। ২৮ অক্টোবর সোভিয়েত ইউনিয়ন কিউবায় ক্ষেপণাস্ত্র সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয়।

সমাধান ও ফলাফল

গোপন সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্র তুরস্ক থেকে পুরনো জুপিটার ক্ষেপণাস্ত্র সরিয়ে নেয়। সঙ্কটের পর দুই পরাশক্তির মধ্যে সরাসরি হটলাইন স্থাপিত হয়। ১৯৬৩ সালে আংশিক পরমাণু পরীক্ষা নিষিদ্ধ চুক্তি সই হয়, যা ঠান্ডা যুদ্ধের উত্তেজনা কমিয়ে আনতে ভূমিকা রাখে।

পাঠ

কিউবা সংকট প্রমাণ করে যে সীমিত কূটনীতি ও পারস্পরিক বোঝাপড়া পারমাণবিক বিপর্যয় এড়াতে পারে। সংকট শেষে বিশ্ব রাজনীতিতে কৌশলগত ভারসাম্য, বার্তা যোগাযোগ এবং সংঘাত কমানোর ধারণা গভীরভাবে প্রতিষ্ঠা পায়।

সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, হিস্টরি ডট কম, উইকিপিডিয়া।

প্রশ্নোত্তর

সংকট কীভাবে শুরু হয়েছিল?

সোভিয়েত ইউনিয়ন কিউবায় মাটির দুর্গম জায়গায় গোপনে ক্ষেপণাস্ত্র বসাতে শুরু করলে ১৯৬২ সালের অক্টোবরে ইউ-২ বিমানের ছবিতে তা ধরা পড়ে।

সংকটের সমাধান কেমন হয়েছিল?

নৌ অবরোধ ও গোপন কূটনৈতিক চিঠি আদান-প্রদানের পর সোভিয়েত ইউনিয়ন কিউবার ক্ষেপণাস্ত্র সরায়; যুক্তরাষ্ট্র গোপন শর্তে তুরস্ক থেকে ক্ষেপণাস্ত্র অপসারণে সম্মত হয়।