নিমতলি অগ্নিকাণ্ড ২০১০: পুরান ঢাকার সরু গলিতে ১২৪ প্রাণহানি

- ৩ জুন ২০১০ রাতে নিমতলি এলাকায় বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ থেকে ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে
- অন্তত ১২৪ জন মারা যান; অনেক মানুষ বিল্ডিংয়ের সিঁড়ি আর জানালায় আটকে প্রাণ হারান
- ঘরে মজুদ রাখা সুগন্ধি ও রাসায়নিক দ্রব্য দ্রুত আগুন ছড়ায়; সরু গলিতে ফায়ার সার্ভিসের ট্রাক ঢুকতে পারে না
- একটি বিল্ডিংয়ে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের পার্টির পাশেই কয়েকজন মারা যান; পরে তদন্ত কমিটি বৈদ্যুতিক ত্রুটিকে কারণ বলে চিহ্নিত করে
২০১০ সালের ৩ জুন বৃষ্টির রাতে পুরান ঢাকার নিমতলি এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। রাত সাড়ে দশটার দিকে একটি ভবনের রুফটপে থাকা বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার বিস্ফোরিত হয়; আগুনের ফুলকি থেকে গোটা ভবনগুলো জ্বলে ওঠে। সুগন্ধি, কসমেটিকস ও রাসায়নিক দ্রব্য দিয়ে ভরা ছোট ছোট দোকানগুলো আগুনের খোরাক হয়ে যায়।
প্রাণহানির করুণ চিত্র
এক রাতেই অন্তত ১২৪ জন প্রাণ হারান। বহু মানুষ ভবনের সিঁড়ি, জানালার লোহার গ্রিল আর দরজায় আটকে পুড়ে ও শ্বাসরোধে মারা যান। ঘটনার সময় নিমতলির একটি চারতলা ভবনে একটি বিবাহ অনুষ্ঠানের ডিনার পার্টি চলছিল; সে ভবন থেকেই অনেক প্রাণহানি ঘটে। দমকল বাহিনী দ্রুত পৌঁছলেও সরু গলির মধ্যে তাদের গাড়ি ঢুকতে পারেনি; ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পায়ে হেঁটে লম্বা পাইপ টেনে নিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন।
তদন্ত ও প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পরে প্রশাসন জরুরি তদন্ত কমিটি গঠন করে; কমিটি বৈদ্যুতিক ত্রুটিকে আগুনের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে। মৃতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ ঘোষণা হয় এবং পুরান ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ ওয়্যারিং ও দোকানপাটের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
পাঠ
নিমতলির এই অগ্নিকাণ্ড প্রমাণ করে, ঘনবসতিপূর্ণ অনিয়ন্ত্রিত নগর বসতি, দাহ্য দ্রব্যের গোদাম আর ফায়ার এক্সিটের অভাব কতটা প্রাণঘাতী হতে পারে। পরে পুরান ঢাকায় নজরদারি ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা জোরদারের কথা বলা হয়, কিন্তু এক দশক পরেও দুর্বল ব্যবস্থাপনাই থেকে যায়।
সূত্র: উইকিপিডিয়া, বিবিসি নিউজ, দ্য ডেইলি স্টার।
প্রশ্নোত্তর
নিমতলি অগ্নিকাণ্ডের কারণ কী ছিল?
তদন্তে দেখা যায়, ভবনের রুফটপে থাকা বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমারের শর্টসার্কিট ও বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত; সেখানে রাখা রাসায়নিক ও দাহ্য দ্রব্য আগুন দ্রুত ছড়িয়ে দেয়।
প্রাণহানি এত বেশি হলো কেন?
ভবনগুলোর কোনও ফায়ার এক্সিট ছিল না এবং জানালায় লোহার গ্রিল থাকায় ভেতরে আটকা পড়া মানুষ বের হতে পারেননি; সরু গলির কারণে দমকল বাহিনীর যানবাহনও সহজে ঢুকতে পারেনি।