ঘূর্ণিঝড় আইলা ২০০৯: উপকূলের বাঁধ ধসে দুই দেশে ৩২৮ প্রাণহানি

- ২৫ মে ২০০৯ সালে ঘূর্ণিঝড় আইলা বাংলাদেশের খুলনা-সাতক্ষীরা উপকূলে আঘাত হানে
- বাংলাদেশে ১৯০ জন ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ১৩৮ জনসহ দুই দেশে ৩২৮ জন নিহত হন
- বাংলাদেশের ১১টি উপকূলীয় জেলায় ৩৯ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়; লবণাক্ত পানিতে বাঁধ ভেঙে ফসল ও ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়
- বাংলাদেশে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার ঘর সম্পূর্ণ ও ৩ লাখ ৭৩ হাজার ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়; ভারতে ৬৮ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়
২০০৯ সালের ২৫ মে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আইলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের খুলনা-সাতক্ষীরা অঞ্চলে আঘাত হানে। ঘণ্টায় প্রায় ১১০ কিলোমিটার গতির ঝড়ের সঙ্গে তিন মিটারের মতো জলোচ্ছ্বাস আসে, যা উপকূলীয় বাঁধ টপকে লোকালয়ে লবণাক্ত পানি ঢুকিয়ে দেয়।
ক্ষয়ক্ষতির চিত্র
সরকারি হিসাবে আইলায় বাংলাদেশে ১৯০ জন এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ১৩৮ জন নিহত হন; দুই দেশ মিলিয়ে মোট প্রাণহানি ৩২৮ জনে পৌঁছায়। রিলিফওয়েবের তথ্যমতে বাংলাদেশের ১১টি উপকূলীয় জেলায় প্রায় ৩৯ লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার ঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয় এবং ৩ লাখ ৭৩ হাজার ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভারতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ৬৮ লাখ। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যও ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে।
উদ্ধার ও পুনর্বাসন
ঝড়ের পর সেনাবাহিনী, উপকূলরক্ষী ও স্থানীয় প্রশাসন টানা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালায়। লবণাক্ত পানিতে পানের ঘর ও ফসল নষ্ট হওয়ায় বহু মানুষ দীর্ঘ দিন বাস্তুচ্যুত ছিল। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে।
পাঠ
আইলা আবারও প্রমাণ করে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বাড়ছে এবং উপকূলীয় বাঁধ ও ম্যানগ্রোভ বন রক্ষা করা কতটা জরুরি। সুন্দরবন ঝড়ের তীব্রতা কমালেও বাইলি বাঁধের দুর্বলতা দুর্ভোগের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। পরে বাঁধ মেরামত ও ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সূত্র: রিলিফওয়েব, উইকিপিডিয়া, আল-জাজিরা।
প্রশ্নোত্তর
আইলার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণ কী ছিল?
উপকূলীয় বাঁধের দুর্বলতা ও জলোচ্ছ্বাস; দুই মিটারের বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস বাঁধ টপকে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে এবং লবণাক্ত পানি জমিনের ফসল নষ্ট করে।
আইলা কোন অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে?
বাংলাদেশের খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাটসহ দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুর।