চেরনোবিল বিপর্যয় ১৯৮৬: পরীক্ষার ভুলে ইউক্রেনের পারমাণবিক চুল্লিতে বিস্ফোরণ

- ২৬ এপ্রিল ১৯৮৬ সালে রাতে ইউনিট-৪-এ নিম্ন শক্তির নিরাপত্তা পরীক্ষা চলাকালে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটে
- বিস্ফোরণে দুই শ্রমিক সঙ্গে সঙ্গে মারা যান; আরও ২৮ জন তীব্র তেজস্ক্রিয়তা সিনড্রোমে প্রাণ হারান
- ব্ল্যাক রেডিওঅ্যাক্টিভ মেঘ ইউরোপ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে; আশপাশের লাখ লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়
- ৩৫ বছর পরেও চারপাশের চল্লিশ কিলোমিটার এলাকা ব্যাপক দূষিত; ইউএনএসসিইএআর দুর্ঘটনার স্বাস্থ্য প্রভাব নিয়ে সমীক্ষা চালায়
১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিল রাতে এখনকার ইউক্রেনের চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চতুর্থ চুল্লিতে নিম্ন শক্তিতে বিদ্যুৎ অপসারণের এক নিরাপত্তা পরীক্ষা চলছিল। পরীক্ষার এক পর্যায়ে শক্তির হঠাৎ ও অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি ঘটে; বাষ্পের তীব্র চাপে রিঅ্যাক্টরের গোটা ছাদ উড়ে যায় এবং ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড শুরু হয়।
বিপর্যয়ের ব্যাপ্তি
বিস্ফোরণে গ্রাফাইট মডারেটরসহ রিঅ্যাক্টরের মূল অংশ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। দুই শ্রমিক সঙ্গে সঙ্গে মারা যান, আরও ২৮ জন তীব্র তেজস্ক্রিয়তা সিনড্রোমে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রাণ হারান। গরম তেজস্ক্রিয় কণাগুলো বাতাসে উঠে ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, স্ক্যান্ডিনেভিয়া ও পশ্চিম ইউরোপের অনেক দেশেও দূষণ পরিমাপ করা হয়।
জনগণ ও দূষণ
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল ইউক্রেন, বেলারুশ ও রাশিয়া। দূষিত এলাকা থেকে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়; পরিত্যক্ত শহর প্রিপিয়াত আজও আটলান্টিকের সঙ্কট এবং পর্যটকদের টানে জনপ্রিয়। প্রায় ৩৫ বছরেরও বেশি সময় পরে চুল্লির চারপাশের চিরস্থায়ীভাবে বিরল অঞ্চলে দূষণের মাত্রা এখনো বেশি।
তদন্ত ও প্রভাব
প্রতিবেদনগুলোতে চুল্লির ডিজাইনগত ত্রুটি এবং অপারেটরদের ভুলকে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়ম কঠোর করা হয়, কিন্তু জার্মানিসহ অনেক দেশ পারমাণবিক শক্তির প্রতি আস্থা হারায় এবং পরে বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।
পাঠ
চেরনোবিলই দেখিয়েছে পারমাণবিক দুর্ঘটনার তেজস্ক্রিয় প্রভাব প্রজন্মের পর প্রজন্ম জুড়ে ছড়িয়ে থাকতে পারে। নিরাপত্তা সংস্কৃতির অভাবে একটি ভুল পরীক্ষা কীভাবে গোটা অঞ্চলের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে, চেরনোবিল তার অনন্য দৃষ্টান্ত।
সূত্র: ওয়ার্ল্ড নিউক্লিয়ার অ্যাসোসিয়েশন, ইউএনএসসিইআর, উইকিপিডিয়া।
প্রশ্নোত্তর
চেরনোবিলে বিস্ফোরণের কারণ কী ছিল?
নিম্ন শক্তিতে নিরাপত্তা পরীক্ষা চলাকালে রিঅ্যাক্টরের ডিজাইনগত ত্রুটি ও অপারেটরদের ভুলের সমন্বয়ে শক্তির অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি ঘটে, ফলে বাষ্প বিস্ফোরণে ছাদ উড়ে যায়।
কত মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল?
দুর্ঘটনার পর আশপাশের প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়; পরবর্তীতে ৩৫শের বেশি গ্রাম পরিত্যক্ত হয় এবং বিস্তৃত অঞ্চল দূষিত থাকে।