ব্যক্তিস্বাধীনতা ও রাষ্ট্রের খবরদারি

3 মিনিট পাঠ
ব্যক্তিস্বাধীনতা ও রাষ্ট্রের খবরদারি
এক নজরে
  • রাষ্ট্রের কর্মচারী যখন নিজের ব্যক্তিগত নৈতিক বোধকে আইনের ওপরে স্থান দেন

সমাজের অদৃশ্য শিকল ভাঙতে না পারা সেই বন্ধুর কথা অনেক বছর পর মনে পড়ে গেল গত ৮ আগস্ট ২০২৬-এ তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীকে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেপালে যেতে বাধা দেওয়ার খবরটি পড়ে।

প্রশ্ন হচ্ছে রাষ্ট্রের কোন আইন বা বিধি একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীকে পুরুষ অভিভাবক বা সঙ্গী ছাড়া বিদেশ যেতে নিষেধ করেছে?

দুটি ঘটনা বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একজন ব্যক্তিকে তাঁর সাংবিধানিক অধিকার ভোগ করতে কেবল বাধাই দিচ্ছে না, বরং মনমতো প্রেসক্রিপশন দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছে যেন সে অনুযায়ী চলাফেরা করেন।

২৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে এই বাধা দেওয়ার বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেছেন এবং ভবিষ্যতে আইনি কারণ ছাড়া রিট আবেদনকারী নারী ত্রয়ীদের বাধা না দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন।

তাঁকে বলা হয়েছিল পোশাকটি ‘অশালীন’ এবং তিনি যেন ট্রাউজার্স বা ফুলপ্যান্ট পরে আসেন।

বরং বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩১-এ বলা আছে, আইনানুযায়ী ব্যতীত এমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না, যাতে কোনো ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির হানি ঘটে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার ১৯৭৩ অনুযায়ী কেবল নির্দিষ্ট আইনগত কারণে পাসপোর্ট প্রত্যাখ্যান, সীমিত বা বাতিল করার বিধান রয়েছে।

সাম্প্রতিক দুটি ঘটনা এই প্রবণতাকে নতুন করে সামনে এনেছে।

একইভাবে মেট্রোরেলে একজন যুবককে পোশাকের কারণে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।

কিংবা কোন আইনে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট ধরনের প্যান্ট না পরলে একজন যাত্রী গণপরিবহনে উঠতে পারবেন না?

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মচারীর ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এক জিনিস নয়।

কারণ আইন যেখানে শেষ, ব্যক্তিগত নৈতিকতার পাহারা যদি সেখান থেকে শুরু হয়, তাহলে নাগরিকের স্বাধীনতার জায়গাটি দ্রুত সংকুচিত হতে থাকে।

একজন পুলিশ সদস্যের কাজ অপরাধ প্রতিরোধ করা, অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা, নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

আমাদের সমাজে ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রভাব আছে এটি অস্বীকার করার কোনো কারণ নেই।

আমার স্কুলজীবনের কাছের এক বন্ধু এইচএসসি বোর্ড পরীক্ষায় মেধাতালিকায় স্থান পেয়েছিল।

অনার্স শেষ করে আমি দেশের বাইরে পড়তে গেলেও আমার সেই মেধাবী বন্ধু যেতে পারেনি।

কারণ, তার পরিবার তাকে অবিবাহিত অবস্থায় দেশের বাইরে একা পড়তে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি।

ভ্রমণের অনুমতি না দেওয়ার কারণ হিসেবে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে তাঁরা অবিবাহিত নারী!

প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশের মানুষ কি তবে সংবিধানে উল্লেখিত মৌলিক অধিকার স্বাধীনভাবে ভোগ করতে পারবেন, নাকি যখন-তখন কারও খেয়ালখুশিমতো বানানো নিয়মকানুনের বেড়াজালে পড়ে ব্যক্তিস্বাধীনতার মূল্য দিতে হবে আমাদের?

প্রথমেই দেখা দরকার পোশাক-আশাক পরিধান সম্পর্কিত আইনের কোনো ধারা বাংলাদেশে আছে কি না।

প্রত্যেকেরই নির্দিষ্ট এখতিয়ার আছে, নির্দিষ্ট দায়িত্ব আছে।

কোনো পোশাক তার ব্যক্তিগত রুচির সঙ্গে না মিলতে পারে, কোনো আচরণ তার কাছে অশালীন মনে হতে পারে।

বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার কাজ ভ্রমণসংক্রান্ত আইন ও বিধি প্রয়োগ করা।

মেট্রোরেলের নিরাপত্তাকর্মীর কাজ যাত্রী ও স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

প্রমাণ দেখুন— কেন নিশ্চিত বলছি

2টি স্বাধীন পত্রিকায় একই তথ্য মিলেছে — বক্তব্যটি যাচাইকৃত।

নির্ভরযোগ্যতার স্তর: A · স্কোর 4