২০২১ সালে রূপগঞ্জের হাশেম ফুডস অগ্নিকাণ্ড: লকড ডোরে ৫২ প্রাণহানি
২০২১ সালের ৮ জুলাই বিকেলে রূপগঞ্জের হাশেম ফুডসের কারখানায় ভয়াবহ আগুন; মূল গেট ভেতর থেকে লক থাকায় ৫২ শ্রমিক প্রাণ হারান।
Tazreen Fashions factory fire
শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যাচাইডেস্কে প্রকাশিত সব প্রতিবেদনের কালানুক্রম। ঘটনাটি 2012 সালের।
এই ক্ষুদ্র-কালানুক্রম সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন-ভিত্তিক তৈরি; প্রতিটি খণ্ড তারিখ ও সূত্রসহ যাচাই করা। এই সংরক্ষণাগার শুধু ঘটনাপঞ্জিতে থাকে — মূল সাইটের খবরের তালিকায় এগুলো আসে না।
১৩ বছর পরও বিচার শেষ হয়নি — ১০৪ সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। টানা দুই শুনানিতে মালিক দেলোয়ার হোসেন হাজির না হওয়ায় তিনি বিদেশে পালিয়ে থাকতে পারেন বলে শ্রমিক সংগঠনগুলোর আশঙ্কা; বেশ কয়েকজন আসামি পলাতক। মরদেহ পুড়ে যাওয়ায় ৫৩ জন নিহত শ্রমিককে জুরাইন কবরস্থানে নামহীনভাবে সমাহিত করা হয় — তাদের পরিচয় আজও অমীমাংসিত।
সূত্র: The Business Standard
১১তম বার্ষিকীতে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানায়, বিচার শামুকগতিতে এগোচ্ছে — ১০৪ সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ; ৫৬টি শুনানির তারিখের মধ্যে মাত্র ৮ দিন সাক্ষী হাজির হয়েছিল।
সূত্র: The Business Standard
হামলার নবম বার্ষিকীতে শ্রমিক সংগঠনগুলো বিচার, পুনর্বাসন ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার দাবি জানায়। বিচার শুরু ছয় বছর পরেও ১০৪ সাক্ষীর মধ্যে মাত্র নয়জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়; করোনা মহামারি বিচার বিলম্ব আরও দুই বছর বাড়িয়েছে বলে প্রসিকিউশন জানায়।
বিচার চলাকালে দেলোয়ার হোসেন জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পান; পরে তিনি ক্ষমতাসীন দলের মৎস্যজীবী লীগের রাজনীতিতেও জড়িয়ে পড়েন।
সূত্র: The Business Standard
ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালত মালিক দেলোয়ার হোসেনসহ ১৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে; ২০১৫ সালের ১ অক্টোবর থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
সূত্র: New Age
সিআইডি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দেয়, যাতে আসামি করা হয় মালিক দেলোয়ার হোসেন, চেয়ারম্যান ও সিনিয়র ব্যবস্থাপকসহ ১৩ জনকে; সাক্ষীর সংখ্যা ১০৪। কারখানাটি ত্রুটিপূর্ণ নকশায় তৈরি ও গ্রাউন্ড ফ্লোরের ওয়াকওয়ে অবৈধভাবে গুদামে রূপান্তরের অভিযোগ আনা হয়।
সূত্র: New Age
সরকারি তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনে আগুনকে নাশকতা আখ্যা দিলেও মালিক দেলোয়ার হোসেনের তীব্র অবহেলার কথা বলে। উল্লেখ করা হয়, কারখানার অগ্নিনিরাপত্তা সনদ ২০১২ সালের জুনে ইতোমধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল; প্রতিবেদনে মালিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়।
সূত্র: BBC News
২৭ নভেম্বর জাতীয় শোকদিবস পালিত হয়; জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। একই দিনে কারখানার তিনজন সুপারভাইজরকে গ্রেপ্তার করা হয় — অভিযোগ, তারা জরুরি প্রস্থানের তালা দিয়ে শ্রমিকদের বের হতে বাধা দিয়েছেন।
সূত্র: Wikipedia
আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক খয়রুল ইসলাম মামলা দায়ের করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিহতদের শোক প্রকাশ করে নাশকতার আশঙ্কা ব্যক্ত করেন; বিজিএমইএ প্রতিটি নিহত শ্রমিকের পরিবারের জন্য ১,২৫০ ডলার ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করে।
সন্ধ্যায় আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে নয়তলা তাজরীন ফ্যাশনস কারখানায় আগুন লাগে; ভেতরে ছিলেন প্রায় ৯৮৪ জন শ্রমিক। অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ ও জরুরি প্রস্থান না থাকায় অন্তত ১১২ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয় এবং ২০০ জনের বেশি আহত হন — বাংলাদেশের ইতিহাসে নিহতের দিক থেকে এটি ছিল সবচেয়ে মারাত্মক কারখানা অগ্নিকাণ্ড।
সূত্র: The Business Standard
আমাদের 4টি প্রতিবেদন এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত — কালানুক্রমে সাজানো।
২০২১ সালের ৮ জুলাই বিকেলে রূপগঞ্জের হাশেম ফুডসের কারখানায় ভয়াবহ আগুন; মূল গেট ভেতর থেকে লক থাকায় ৫২ শ্রমিক প্রাণ হারান।
২০২১ সালের ২২ মার্চ বিকালে কক্সবাজারের বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ড শুরু হয়। ইউএনএইচসিআর নিশ্চিত করে, অন্তত ১৫ জন নিহত ও ৪৫ হাজার মানুষ উদ্বাস্তু হয়েছেন।
২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে পুরান ঢাকার চকবাজারের হাজি ওয়াহেদ ম্যানশনে রাসায়নিক গুদামে আগুন ধরে; আগুন ছড়িয়ে পড়ে ৩টি ভবনে। ছিল ৭০-এর বেশি প্রাণহানি।
২০১০ সালের ৩ জুন রাতে পুরান ঢাকার নিমতলিতে ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ থেকে আগুন ছড়িয়ে অন্তত ১২৪ জন নিহত হন। সরু গলি ও রাসায়নিক দ্রব্যের দোকানের ভারে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়।