মতামত/বিশ্লেষণযাচাই চলছে

রবীন্দ্রনাথ-নজরুল দ্বৈরথ: ইতিহাসের সত্য, বাঙালির আত্মপ্রবঞ্চনা

প্রকাশিত: 1 মিনিট পাঠ
রবীন্দ্রনাথ-নজরুল দ্বৈরথ: ইতিহাসের সত্য, বাঙালির আত্মপ্রবঞ্চনা
এক নজরে
  • ১. রবীন্দ্রনাথের প্রতিষ্ঠা, নজরুলের আবির্ভাব রবীন্দ্রনাথ যখন বাংলা সাহিত্যের আকাশে প্রতিষ্ঠিত, নজরুল তখনো তাঁর সাহিত্যিক জীবন নির্মাণের পথে
  • প্রশ্ন হচ্ছে, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল কি সত্যিই পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন
  • যে মানুষটি তার চিন্তার জগৎকে প্রসারিত করতে পারে, তাকে সে একসময় পূজার আসনে বসায়; তারপর তার নামে একটি সম্প্রদায় তৈরি করে, তার চারপাশে নিষেধের বেড়া তোলে এবং শেষ পর্যন্ত তাকে নিজের সংকীর্ণতার পাহারাদার বানিয়ে ফেলে

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সম্পর্ক নিয়ে আমাদের সমাজে যে দ্বৈরথের কাহিনি প্রচলিত, তার মধ্যে এই মানসিকতার একটি প্রকট নমুনা দেখা যায়।

দুই কবিকে আমরা পাশাপাশি বসিয়ে তাঁদের সাহিত্য পড়তে চাই না; বরং একজনকে অন্যজনের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে নিজেদের পছন্দ, পক্ষপাত ও পরিচয়ের বৈধতা প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

নাকি তাঁদের সম্পর্ককে ঘিরে যে বিরোধের গল্প আমরা শুনে আসছি, তার বড় অংশই পরবর্তী সময়ের ব্যাখ্যা, অতিরঞ্জন এবং সাংস্কৃতিক রাজনীতির নির্মাণ?

অন্যজনের অভিজ্ঞতা গড়ে উঠেছে দারিদ্র্য, লোকসংস্কৃতি, লেটো দলের গান, সৈনিকজীবন এবং পরাধীন দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে।

একজনের সাহিত্যিক বিকাশ ঘটেছে উনিশ শতকের বঙ্গীয় নবজাগরণ, ব্রাহ্মসমাজের সাংস্কৃতিক পরিবেশ এবং ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থার বিস্তৃত পরিসরে।

সাহিত্যের দুই মহীরুহকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে আমরা আসলে নিজেদের কোন সংকট আড়াল করি?

প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে হলে প্রথমেই আমাদের একটা বদভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে।

যে তথ্য আমাদের বিশ্বাসকে সমর্থন করে, শুধু সেটুকু গ্রহণ করা এবং বিপরীত তথ্যকে উপেক্ষা করা আত্মপ্রবঞ্চনারই নামান্তর।

রবীন্দ্রনাথ বাংলা ভাষাকে এমন এক ব্যাপ্তি দিয়েছিলেন, যেখানে ব্যক্তিমানুষের প্রেম, প্রকৃতি, মৃত্যু, ঈশ্বর, সমাজ ও বিশ্বমানবতার প্রশ্ন পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে ওঠে।

নজরুল সেই ভাষার ভেতরে প্রবেশ করে তাকে নতুন উত্তাপ দিয়েছেন।

প্রমাণ দেখুন— কেন একক/আংশিক

একটি মাধ্যমেই এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। আরও স্বাধীন সূত্রে না মেলা পর্যন্ত এটি একক সূত্রের তথ্য হিসেবেই থাকে।