কর্ণফুলীতে নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদীতে স্রোতের টানে তলিয়ে গিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় তিন ঘণ্টা পর নৌবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তার মরদেহ উদ্ধার করে বলেছে বাংলা ট্রিবিউন।
মৃত শিক্ষার্থীর নাম সাজিদ শাহারিয়ার সানাম (২৪)। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কাপ্তাই উপজেলার সীতার পাহাড় এলাকার নদীর পাথর ঘাট অংশে নেমে তিনি তলিয়ে যান বলে সমকাল জানিয়েছে। এরপর বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার হয়। সমকাল আরও জানিয়েছে, রবিবার দুপুর প্রায় দেড়টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
দৈনিক ইত্তেফাক জানিয়েছে, কাপ্তাইয়ে বেড়াতে গিয়ে কর্ণফুলী নদীতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে চবি শিক্ষার্থীর। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। অন্যদিকে দেশ রূপান্তর জানিয়েছে, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বিভাগের তথ্যে দুই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে পার্থক্য রয়েছে।
পুরো ঘটনায় নদীর স্রোতকে দায়ী করে প্রতিবেদনগুলো বলা হয়েছে, স্রোতের টানে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই নিখোঁজের এ ঘটনা ঘটে। তলিয়ে যাওয়ার পরপরই আশপাশের মানুষজন উদ্ধারতৎপরতা শুরু করলেও দ্রুত স্রোতের তীব্রতা তাদের পথ আটকে দেয়। পরে নৌবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা অভিযান চালিয়ে তিন ঘণ্টার চেষ্টায় মরদেহটি উদ্ধার করে। উদ্ধারের পর আইনি প্রক্রিয়ায় মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশাসন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এ শিক্ষার্থীর প্রাণহানির খবরে কাপ্তাই ও বিশ্ববিদ্যালয় মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কর্ণফুলী নদীর তীর ও ঘাটগুলো বেড়াতে আসা মানুষের কাছে জনপ্রিয় একটি পর্যটন-স্থান; পর্যটকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নদীর ঘাটগুলোয় সতর্কতামূলক ব্যানার, নজরদারি ও সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দিচ্ছেন স্থানীয়রা; নদীর পাড়ে নামার সময়সহ পর্যটকদের আচরণ নিয়ে সতর্কতা জারির পরামর্শও উঠে এসেছে। কর্ণফুলীর স্রোতের টানে এই মৃত্যু পর্যটকদের মাঝেও নদীর ঝুঁকি সম্পর্কে নতুন করে সচেতনতা তৈরি করেছে। এ খবরটি সমকাল, দৈনিক ইত্তেফাক, বাংলা ট্রিবিউন ও দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদন মিলিয়ে যাচাই করা হয়েছে।