সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে দেশছাড়া করা যাবে না: কলকাতা হাইকোর্ট

প্রকাশিত: 5 মিনিট পাঠ
সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে দেশছাড়া করা যাবে না: কলকাতা হাইকোর্ট
এক নজরে
  • কেবল মাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে দেশছাড়া করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য
  • মেক্সিকো ধেয়ে আসছে হারিকেন সাইমন, ৭ ফুট জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা কানাডায় আশ্রয় আবেদনে বড় পরিবর্তন, নতুন নিয়ম ৩ নভেম্বর থেকে শুধু সন্দেহের বশে কাউকে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে ভারত থেকে বহিষ্কার করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের এক বিচারপতি
  • শুধুমাত্র সন্দেহের বশে কাউকে বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে নিজ দেশ থেকে বিতারিত বা পুশব্যাক করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন কলকাতা হাইকোর্ট

সন্দেহের বশে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে দেশছাড়া করা যাবে না: কলকাতা হাইকোর্ট ১০ মাসের বেশি সমুদ্রে কাটিয়ে ঘরে ফিরল মার্কিন রণতরি আব্রাহাম লিংকনের নাবিকেরা ১৬৫ কিমি বেগে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘ইসাইয়াস’!

একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সঠিক আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কোনো ব্যক্তিকে আটক রাখা যাবে না।

শুনানিতে ওই ব্যক্তির আইনজীবী জানান, কয়েকজন প্রতিবেশীর বক্তব্যের ভিত্তিতে সৃষ্ট সন্দেহের জেরে গত ৮ আগস্ট থেকে তাকে আটকে রাখা হয়েছে।

বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, কাউকে দেশান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাঁর নথিপত্র যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) একটি মামলার শুনানি চলাকালে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এই মন্তব্য করেন।

এদিন মুর্শিদাবাদের এক ব্যক্তির আটকাদেশ ও তাকে দেশ থেকে বহিষ্কারের প্রস্তাবকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা একটি মামলার শুনানি করছিলেন ওই বিচারক।

বাংলাদেশে প্রায় এক বছর কাটানোর পর, আদালতের নির্দেশে জুলাই মাসে মালদহের মহাদিপুর স্থলবন্দর দিয়ে এমন চারজন ভারতীয়কে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

আবেদনকারীর আইনজীবী রবিউল ইসলামের দাবি, কয়েকজন প্রতিবেশীর দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া সন্দেহের কারণে গত ৮ আগস্ট থেকে তার মক্কেলকে আটক রাখা হয়েছে।

হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণ এমন এক সময়ে এলো যখন নথিপত্র, নাগরিকত্ব ও নির্বাচনি পরিচয় নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে তীব্র বিতর্ক চলছে; বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধনের এক বিতর্কিত বিশেষ প্রক্রিয়ার (এসআইআর) জেরে ভারতজুড়ে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

বিরোধী দল ও সুশীল সমাজের সংগঠনগুলোর অভিযোগ, বিজেপিকে সুবিধা করে দেওয়ার লক্ষ্যে লাখ লাখ প্রকৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

দেশছাড়া করার আদেশটি আপাতত ‘স্থগিত রাখা হয়েছে উল্লেখ করে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানান, কোনো ব্যক্তিকে নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া উচিত।

কয়েকজন প্রতিবেশীর বক্তব্যের ভিত্তিতে সৃষ্ট সন্দেহই ছিল তার আটকের ভিত্তি।

গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে বিজেপিশাসিত অনেক রাজ্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা বাংলাভাষী মুসলিম শ্রমিকদের অবৈধ বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করছে এবং কোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনালের আদেশ ছাড়াই বিএসএফের সহায়তায় বাংলাদেশে পুশ-ইন করছে।

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন সরকার ‘আটক, নাম বাদ দেওয়া ও বহিষ্কার’ নীতি ঘোষণা করে।

কেবল কিছু মানুষের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে এটা সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একজন অনুপ্রবেশকারী।

বাংলায় যাদের নাম বাদ পড়েছে, তাদের অনেকেই সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং সব সময় অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে বহিষ্কৃত হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি, ৫৭ মেট্রো স্টেশনে প্রবেশপথ বন্ধের প্রস্তাব ‘সত্তর দশক থেকে ভারতে আসা সবাইকে কি ফেরত পাঠানো সম্ভব’ বাবা-মা ও বোনকে হত্যা: এআইয়ের মাধ্যমে যেভাবে ফাঁসলেন প্রেমিক যন্তর মন্তর যেভাবে গণতন্ত্রের স্পন্দন মাপতে

পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের এক বাসিন্দাকে আটক রেখে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রস্তাব চ্যালেঞ্জ করে করা একটি রিট আবেদনের শুনানিতে তিনি এ পর্যবেক্ষণ দেন।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব নির্ধারণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাঁকে নিজের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপনের পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে হবে।

এ সময় বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, ওই ব্যক্তিকে কেন দুই মাস ধরে হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তাঁর জাতীয়তা নির্ধারণে কেন একটি সুস্পষ্ট ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

বিচারপতি আরও প্রশ্ন করেন, ‘১৯৭০-এর দশক থেকে কত মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করেছেন?

’ পরে মামলাটি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠিয়ে উপযুক্ত বেঞ্চে শুনানির ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান তিনি।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের (এফআরআরও) ঐ দম্পতিকে দেশান্তরের নির্দেশ এবং স্বামীর আটকের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট আবেদনটি করেন আটক ব্যক্তির স্ত্রী।

শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন, একজন ব্যক্তির জাতীয়তা বা নাগরিকত্ব নির্ধারণে কেন স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

তাকে আটকের ভিত্তি ছিল কয়েকজন প্রতিবেশীর বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়া সন্দেহ।

এ সময় তিনি দেশান্তরের আদেশটি আপাতত স্থগিত রাখার কথা উল্লেখ করেন।

২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে ভারতের বিভিন্ন বিজেপিশাসিত রাজ্যে বাংলাভাষী মুসলিম পরিযায়ী শ্রমিকদের ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ চিহ্নিত করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার এক মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, কারও নাগরিকত্ব নির্ধারণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে এবং নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণের যথেষ্ট সুযোগ দিতে হবে।

মনে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীকে (আটক ব্যক্তিকে) আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেয়নি।

ভুক্তভোগীর আইনজীবী রবিউল ইসলাম বলেন, আমার মক্কেল দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে আটক রয়েছেন।

বিচারপতি প্রশ্ন করেন, কেবল এ ধরনের দাবির ওপর ভিত্তি করে কীভাবে কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করা সম্ভব।

রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট-জেনারেল রাজদীপ মজুমদার ইঙ্গিত দিয়েছেন, আটক ব্যক্তি ভুয়া নথিপত্রের ভিত্তিতে ভোটার কার্ড, আধার ও প্যান কার্ডের মতো নথিপত্র সংগ্রহ করে থাকতে পারেন।

এসআইআর প্রক্রিয়ার মূল পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারী হিসেবে বিবেচিত প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ভারতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মনে করেন, আটক ব্যক্তিকে নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণের যথাযথ সুযোগ দেওয়া হয়নি।

প্রমাণ দেখুন— কেন নিশ্চিত বলছি

4টি স্বাধীন পত্রিকায় একই তথ্য মিলেছে — বক্তব্যটি যাচাইকৃত।