ইতিহাসনিশ্চিত [B]

ঘূর্ণিঝড় মোখা: ২০২৩ সালে মিয়ানমার-বাংলাদেশে আঘাত হানা অতি ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়

1 মিনিট পাঠ
ঘূর্ণিঝড় মোখা: ২০২৩ সালে মিয়ানমার-বাংলাদেশে আঘাত হানা অতি ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় — যাচাইডেস্ক
ঘূর্ণিঝড় মোখা: ২০২৩ সালে মিয়ানমার-বাংলাদেশে আঘাত হানা অতি ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় — যাচাইডেস্ক
এক নজরে
  • ২০২৩ সালের ৯ মে বঙ্গোপসাগরে গঠিত হয়ে ১৪ মে মিয়ানমারের কাছাকাছি পৌঁছে মোখা সর্বোচ্চ তীব্রতা অর্জন করে
  • মোখা একসময় সর্বোচ্চ বিভাগের সমতুল্য হয়ে ওঠে; এক মিনিটে ধারাবাহিক গতিবেগ ২৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছিল
  • ১৪ মে সিত্তের উত্তর দিয়ে উপকূলে আছড়ে পড়ার পর মিয়ানমারে কমপক্ষে ৪৬০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়
  • বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে প্রায় অর্ধ মিলিয়ন মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়; কক্সবাজারে হাজারো ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়

২০২৩ সালের ৯ মে বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণাঞ্চলে একটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়, যা পরের দিনগুলোতে দ্রুত ঘনীভূত হয়ে নাম পায় মোখা। ইয়েমেনের দেওয়া এই নামটি তাদের মোখা বন্দর নগরী থেকে নেওয়া; ঘূর্ণিঝড়টি ২০২৩ সালের মে মাসের মাঝামাঝি দুই দেশের উপকূলে আঘাত হানে।

সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছা

মোখা বঙ্গোপসাগরের উষ্ণ পানিতে ভর করে দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ১৩-১৪ মে তিন মিনিটব্যাপী সর্বোচ্চ বাতাসের গতিবেগ পৌঁছায় ঘণ্টায় ২১৫ কিলোমিটারে এবং নির্ভরযোগ্য অনুমানে তা সর্বোচ্চ বিভাগের সমতুল্য হয়ে ওঠে। ৩৭ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি প্রতিসম কেন্দ্র নিয়ে ঝড়টি মিয়ানমারের দিকে এগোয়।

আছড়ে পড়া মিয়ানমারে

১৪ মে সকালে সিত্তের ঠিক উত্তরে মিয়ানমারের রাখাইন উপকূলে আছড়ে পড়ে মোখা। সেখানকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ও শরণার্থী শিবিরগুলোতে বিশাল ক্ষতি হয়; সরকারি ও সংবাদ মাধ্যমের খবরে প্রায় ৪৬০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু এবং শতশত আহত ও নিখোঁজের তথ্য আসে। জাতিসংঘের হিসাবে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ২ দশমিক ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি।

বাংলাদেশের প্রস্তুতি

বাংলাদেশে উপকূলীয় জেলাগুলো থেকে প্রায় অর্ধ মিলিয়ন মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়; কক্সবাজারে হাজারো ঘর ক্ষতিগ্রস্ত এবং সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপে শত শত বাড়ি ধ্বংস হয়। আশঙ্কা সত্ত্বেও ভারী বর্ষণ ও জলোচ্ছ্বাস সীমিত থাকায় প্রাণহানি তেমন হয়নি।

পাঠ

মোখা আবার স্মরণ করিয়ে দিল যে বঙ্গোপসাগর আর বাংলাদেশ-মিয়ানমার উপকূলই বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ঘূর্ণিঝড় এলাকা; আগাম সতর্কতা ও দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাই একমাত্র জীবনরক্ষার উপায়।

সূত্র: উইকিপিডিয়া, ভয়েস অব আমেরিকা, রেডিও ফ্রি এশিয়া, ভারত আবহাওয়া অধিদপ্তর।

প্রশ্নোত্তর

ঘূর্ণিঝড় মোখার নাম কাদের দেওয়া?

নামটি দিয়েছিল ইয়েমেন; মোখা ইয়েমেনের একটি বন্দর নগরীর নাম, যেখানে মোখা কফির নামও এসেছে।

মোখায় বাংলাদেশের ক্ষতি কেমন ছিল?

ঝড়ের প্রত্যক্ষ প্রভাবে প্রাণহানি না হলেও কক্সবাজারে কমপক্ষে ২ হাজার ৫২২টি ঘর ধ্বংস হয় এবং আরও ১০ হাজারের বেশি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়; কৃষি ফসলের ক্ষতিও ব্যাপক ছিল।