রবীন্দ্রনাথ কেন টার্গেট

- প্রশ্ন জাগে, যাঁকে বাদ দিয়ে বাংলার ইতিহাস বা সাহিত্য ভাবাই যায় না, তাঁকে নিয়ে এত বিদ্বেষ কেন
- এ প্রশ্নের উত্তর যতটা সাহিত্যের পাতায় আছে, তার চেয়ে বেশি আছে ইতিহাস, মনস্তত্ত্ব আর রাজনীতির গভীর অন্দরে
- রোমান্টিক ভাববাদিতা থেকে তাঁর চেতনায় ঘটেছিল এক গভীর জীবনবাদী রূপান্তর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কেন্দ্র করে যুগে যুগে এ দেশে যে মেরুকরণ তৈরি হয়েছে, তা কোনো সাধারণ সাহিত্যিক মতপার্থক্য নয়।
পরবর্তী সময়ে যখন বিশ শতকের প্রথমার্ধে পূর্ববঙ্গে উদীয়মান মুসলিম মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশ ঘটল, তখন ব্রিটিশ আমলের বঞ্চনার শিকার এই সমাজ নিজেদের শিকড় খুঁজতে গিয়ে কলকাতার বাবু সংস্কৃতি আর সামগ্রিক রবীন্দ্র-আধিপত্যকে একধরনের ‘ভিনদেশি’ ও কুলীন সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে দেখতে শুরু করল।
রবীন্দ্রবিরোধিতার এই রাজনৈতিক খেলায় সবচেয়ে ভয়ংকর অস্ত্র হয়ে উঠেছে ধর্মীয় মনস্তত্ত্ব ও উগ্র সাম্প্রদায়িকতা।
মৌলবাদী ও কট্টরপন্থী শক্তিগুলো সব সময় সমাজকে একটি নির্দিষ্ট ও প্রশ্নহীন শৃঙ্খলে আটকে রাখতে চায়।
তবু বারবার প্রশ্ন ওঠে, তাই পুরোনো উত্তর আবার নতুন করে দিতে হয় আমাদের।
ঔপনিবেশিক বাংলার আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট রবীন্দ্রনাথকে অনেকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করালে আমরা তাঁকে দেখতে পাই জোড়াসাঁকোর ‘জমিদার’ হিসেবে।
সন্দেহ নেই, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তিনি জমিদার ছিলেন; পূর্ববঙ্গের শিলাইদহ, শাহজাদপুর আর পতিসরের জমিদারির দায়িত্বও তাঁকে সামলাতে হয়েছিল।
পদ্মার দুর্ধর্ষ ও স্নিগ্ধ রূপ, এখানকার মানুষের হাহাকার আর দারিদ্র্য কবিকে ভেতর থেকে নাড়া দিয়েছিল।
পতিসরের সমবায় ব্যাংক প্রতিষ্ঠা কিংবা নোবেল পুরস্কারের অর্থ কৃষকদের কল্যাণে উৎসর্গ করার মতো ঘটনা প্রমাণ করে, প্রজার অর্থনৈতিক মুক্তির প্রতি তিনি কতটা সংবেদনশীল ছিলেন।
তা সত্ত্বেও, ঔপনিবেশিক কাঠামোর একটা মায়া ও টানাপোড়েন তো ছিলই।
পক্ষান্তরে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও দর্শনজুড়ে রয়েছে মানুষে মানুষে মেলবন্ধন, বহুত্ববাদ আর মুক্তির জয়গান।
প্রমাণ দেখুন— কেন একক/আংশিক
একটি মাধ্যমেই এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। আরও স্বাধীন সূত্রে না মেলা পর্যন্ত এটি একক সূত্রের তথ্য হিসেবেই থাকে।
- প্রথম আলো-এ একই তথ্য প্রকাশ করেছে↗ প্রথম আলো





