অবৈধ ইটভাটায় অর্থায়ন বন্ধের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

অবৈধ ইটভাটায় ব্যাংকঋণসহ সব ধরনের অর্থায়ন বন্ধের সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্তও নিয়েছে কমিটি। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনে কমিটির বৈঠকে এসব সুপারিশ ও সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অর্থায়ন বন্ধের পাশাপাশি ব্যাংকঋণসহ সব ধরনের আর্থিক সহায়তা আটকে দিতে বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। অর্থায়নের এই রশি টানাটানি যেন কার্যকর হয়, সে জন্যই নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে চিঠি পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। অবৈধ ইটভাটা বন্ধে অর্থায়ন রোধকে একটি কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে কমিটি।
কমিটি একইসঙ্গে সারাদেশের বৈধ ও অবৈধ ইটভাটার তালিকা প্রণয়নেরও সুপারিশ করেছে। ইটভাটার সঠিক হিসাব থাকলে নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি ব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে—প্রতিবেদনে এমন ইঙ্গিত উঠে এসেছে।
সংসদীয় কমিটির এই ভূমিকা ইটভাটা খাত নিয়ন্ত্রণে একটি বড় বার্তা বহন করছে। অবৈধ ইটভাটা বন্ধে কেবল প্রশাসনিক ব্যবস্থাই নয়, অর্থায়ন রোধসহ নানা উদ্যোগের প্রয়োজন—এমন প্রেক্ষাপটে কমিটির সুপারিশ ও সিদ্ধান্ত প্রণিধানযোগ্য বলে মনে হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি পাঠানোর পর নিয়ন্ত্রক সংস্থা কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকে নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের। ইটভাটার তালিকা প্রণয়ন হলে বৈধ-অবৈধ ভাটা শনাক্ত করা এবং প্রযোজ্য আইন প্রয়োগ করার প্রক্রিয়া সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়ার কাজ করে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আওতায় ইটভাটা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে এই কমিটির সুপারিশ এখন কার্যকর ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায়। সুপারিশ বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে সমন্বয়ই এবার মূল চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়াবে।
আগামী ধাপগুলোর মধ্যে থাকবে তালিকা প্রণয়নের নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং অর্থায়ন বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের পদক্ষেপ। এই দুই উদ্যোগ একসঙ্গে এগোলে অবৈধ ইটভাটা নিয়ন্ত্রণে ফল আসবে বলে প্রতিবেদনের পরিসরে এমন প্রত্যাশাই প্রকাশ পেয়েছে।
এই খবরটি একাধিক বিশ্বস্ত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন মিলিয়ে যাচাই করা হয়েছে।