টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও যৌথ দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ আয়োজিত ‘এসডিজি মোমেন্ট’ অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে এসডিজি অর্জনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। নিজেদের অগ্রগতি তুলে ধরার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সহযোগিতার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের অর্জন ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়।
এসডিজি হলো জাতিসংঘ ঘোষিত ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য, যার মধ্যে রয়েছে দারিদ্র্যবিমোচন, মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, লিঙ্গসমতা, জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা ইস্যু। এসব লক্ষ্য অর্জনে প্রতিটি দেশকে নিজ নিজ ভূমিকা পালনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে হবে বলে বারবার জোর দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশও এসডিজির অগ্রাধিকার মেনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজস্ব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য বিমোচনের মতো খাতে বাংলাদেশের অগ্রগতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করে। এ প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানকে বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনে দেশের অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরতেও তাঁর এ বক্তব্য গুরুত্ব বহন করে।
এসডিজি বাস্তবায়নের সময়সীমা যত এগিয়ে আসছে, বৈশ্বিক অগ্রগতি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। সময়মতো লক্ষ্য অর্জন না হলে কোন কোন খাতে ঘাটতি থেকে যাবে, তা নিয়ে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। এমন প্রেক্ষাপটে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যও সেই সম্মিলিত প্রচেষ্টার আশপাশেই আবর্তিত হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এসডিজি শুধু একটি আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি নয়; জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে তা গভীরভাবে সম্পৃক্ত। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা তাদের কাজে এসডিজির লক্ষ্যগুলো সংযুক্ত করে চলছে। স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন, তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা আছে। তবুও মূল লক্ষ্য থেকে সরে না গিয়ে আগামী দিনগুলোতে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রত্যাশা রাখছেন অনেকে।
এই খবরটি একাধিক বিশ্বস্ত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন মিলিয়ে যাচাই করা হয়েছে।