ফ্যাক্ট চেকনিশ্চিত [A]

মাদারীপুরে ৪ বছরের হিন্দু শিশুর ধর্ষণের দাবি: ‘মুসলিমরা করেছে’ শিরোনামে প্রচারিত তথ্য বিভ্রান্তিকর

1 মিনিট পাঠ
মাদারীপুরে ৪ বছরের হিন্দু শিশুর ধর্ষণের দাবি: ‘মুসলিমরা করেছে’ শিরোনামে প্রচারিত তথ্য বিভ্রান্তিকর — ছবি: Scottish Government (BY)
মাদারীপুরে ৪ বছরের হিন্দু শিশুর ধর্ষণের দাবি: ‘মুসলিমরা করেছে’ শিরোনামে প্রচারিত তথ্য বিভ্রান্তিকর — ছবি: Scottish Government (BY)
ফ্যাক্ট চেকসব যাচাই →

বাংলাদেশের মাদারীপুর জেলায় ইসলামপন্থীরা চার বছর বয়সী এক হিন্দু শিশুকে অপহরণ করে ধর্ষণ করেছে

বিভ্রান্তিকরযাচাই:

অভিযুক্ত চন্দন সরকার সনাতন (হিন্দু) ধর্মাবলম্বী; নির্ভরযোগ্য সূত্রে কোনো মুসলিম ব্যক্তির সম্পৃক্তার তথ্য নেই। দাবিটিকে হিন্দু সংখ্যালঘু নির্যাতনের উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, যা বিভ্রান্তিকর।

এক নজরে
  • সামাজিক মাধ্যমে ‘মুসলিমরা ৪ বছরের হিন্দু শিশুকে অপহরণ-ধর্ষণ করেছে’ দাবিতে একটি ভিডিও ছড়িয়েছে
  • যাচাইয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত চন্দন সরকার সনাতন (হিন্দু) ধর্মাবলম্বী
  • ঘটনাটি গত জুনের মাদারীপুরের রাজৈর থানার এক ঘটনা; মুসলিমের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি
  • ফলে প্রচারিত দাবিটি বিভ্রান্তিকর — সত্যতা নয়

সম্প্রতি ভারতীয় বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে — মাদারীপুরে ইসলামপন্থীরা চার বছর বয়সী এক হিন্দু শিশুকে অপহরণ করে ধর্ষণ করেছে; নির্যাতনের পর শিশুটিকে বাড়ির সামনে ফেলে দেওয়া হয়েছে এবং তার মা স্থানীয় প্রভাবশালী মুসলিম নেতাদের সামনে কাঁদতে কাঁদতে ন্যায়বিচার চেয়েছেন। ঘটনাটিকে বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত বঞ্চনার উদাহরণ হিসেবেও তুলে ধরা হচ্ছে।

যাচাইয়ে যা পাওয়া গেল

রিউমর স্ক্যানার বাংলাদেশের অনুসন্ধানে জানা যায় — মাদারীপুরে ‘মুসলিম কর্তৃক’ চার বছরের হিন্দু শিশুকে ধর্ষণের দাবিটি সত্য নয়। প্রকৃত ঘটনার অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম চন্দন সরকার, যিনি সনাতন ধর্মাবলম্বী।

ঘটনা মূলত গত জুনের: মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ি ইউনিয়নের মহিষমারী গ্রামের চার বছর বয়সী শিশু তনু মজুমদারকে একই বাড়ির ১৮ বছর বয়সী সনাতন ধর্মাবলম্বী যুবক চন্দন সরকার ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় এক সনাতন কল্যাণ সংস্থার ফেসবুক পেজে গত ২০ জুলাই প্রকাশিত একই ভিডিওর বর্ণনায় চন্দন সরকারের অভিযোগের কথা বলা হয়; সেখানে আরও জানানো হয়, ঘটনার এক মাস পরেও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

গত ২২ জুন এনটিভির এক প্রতিবেদনেও বলা হয়, সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী চন্দন সরকারের বিরুদ্ধে; শিশুটির মা বিষয়টি টের পেলে চন্দন পালিয়ে যান। ঘটনা নিয়ে একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও অভিযুক্ত হিসেবে চন্দন সরকারের নামই উল্লেখ রয়েছে — কোথাও কোনো মুসলিম ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য মেলেনি।

রায়

সুতরাং, অভিযুক্ত আসলে সনাতন ধর্মাবলম্বী — দাবিটিতে যেটিকে ইসলামপন্থীদের কাজ বলে চিত্রিত করা হয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে কোনো মুসলিমের সম্পৃক্ততা না থাকায় ‘ইসলামপন্থীরা হিন্দু শিশুকে অপহরণ-ধর্ষণ করেছে’ প্রচারিত তথ্যটি বিভ্রান্তিকর। এ ধরনের ভুল তথ্য সম্প্রদায়গত উত্তেজনা বাড়াতে পারে; যাচাই না করে শেয়ার না করার অনুরোধ করছে যাচাইডেস্ক।

সূত্র: রিউমর স্ক্যানার বাংলাদেশের প্রতিবেদন (২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) — যেখানে এনটিভি ও একাধিক মূলধারার গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের উল্লেখ রয়েছে।

প্রশ্নোত্তর

ভিডিওটিতে কাকে অভিযুক্ত দেখানো হয়েছে?

মূল ঘটনার অভিযুক্ত চন্দন সরকার — প্রতিবেশী এক সনাতন ধর্মাবলম্বী যুবক; মূলধারার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও তার নামই উল্লেখ আছে।

ঘটনাটি কবে কোথায় ঘটেছে?

মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার মহিষমারী গ্রামে, গত জুন মাসে চার বছর বয়সী শিশু তনু মজুমদারকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল।