অর্থনীতিনিশ্চিত

প্রথমবারের মতো মেয়াদপূর্তির আগেই ১৭১৬ কোটি টাকার ট্রেজারি বন্ড কিনলো সরকার

প্রকাশিত: 3 মিনিট পাঠ
প্রথমবারের মতো মেয়াদপূর্তির আগেই ১৭১৬ কোটি টাকার ট্রেজারি বন্ড কিনলো সরকার
এক নজরে
  • বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ বৃহস্পতিবার সরকার মেয়াদপূর্তির আগে দুই বছর মেয়াদি ১ হাজার ৭১৬ কোটি টাকার ট্রেজারি বন্ড কিনে নিয়েছে
  • সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে প্রথমবারের মতো মেয়াদপূর্তির আগেই ট্রেজারি বন্ড পুনঃক্রয় করেছে সরকার
  • নিলামে জমা পড়ে ২ হাজার কোটি টাকার আবেদন অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর ইস্যু করা দুই বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের বিপরীতে এ বাইব্যাক নিলাম অনুষ্ঠিত হয়

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাইব্যাক নিলামের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি ব্যাংকের কাছ থেকে ১ হাজার ৭১৬ কোটি ১৪ লাখ টাকার দুই বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ড কিনে নেওয়া হয়েছে।

সরকারের তারল্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে মেয়াদপূর্তির আগেই বিক্রি করা বন্ড আবার কিনে নিয়েছে সরকার।

কী এই বাইব্যাক বাইব্যাক হলো সরকার আগে যে বন্ড ইস্যু করে অর্থ সংগ্রহ করেছে, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সেই বন্ড বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে আবার কিনে নেওয়ার প্রক্রিয়া।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে প্রথমবারের মতো সরকারি সিকিউরিটিজ পুনঃক্রয় কার্যক্রম

সাধারণত সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন ব্যয় ও বাজেটের ঘাটতি মেটাতে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে ঋণ নেয়।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা সিরাজ উদ-দৌলা খান এ তথ্য জানান।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকও জানিয়েছে, সিকিউরিটিজ বাজারে এ ধরনের বাইব্যাক নিলামের আয়োজন এবারই প্রথম।

ভবিষ্যতেও বাজার পরিস্থিতি, তারল্য, বিনিয়োগকারীদের চাহিদা এবং সরকারের ঋণের কাঠামো বিবেচনায় প্রয়োজন অনুযায়ী আবারও বাইব্যাক নিলাম আয়োজন করা হবে।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ঋণ দায় ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ এটি।

পাশাপাশি সরকারি সিকিউরিটিজ বাজারের কার্যকারিতা ও দক্ষতা বাড়বে বলে আশা করছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, সরকারি ঋণের ব্যয় ও ঝুঁকির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা, ঋণের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং সরকারি সিকিউরিটিজ বাজারের উন্নয়নে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে অর্থ বিভাগ।

সরকারের মধ্যমেয়াদি ঋণ ব্যবস্থাপনা কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যতেও এ ধরনের নিলাম আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনায় নতুন একটি প্রক্রিয়ার সূচনা হলো, যা দীর্ঘমেয়াদে ঋণ পরিশোধের চাপ ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে।

এসব সরকারি সিকিউরিটিজে ব্যাংক ও অন্যান্য বিনিয়োগকারী অর্থ বিনিয়োগ করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এর মাধ্যমে সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনায় নতুন একটি বাজারভিত্তিক পদ্ধতি যুক্ত হলো।

এ উদ্যোগের ফলে ঋণ পরিশোধের সময় একসঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজনীয়তা কমানো, পুনঃঅর্থায়নের ঝুঁকি

সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক, কার্যকর ও বাজারভিত্তিক করার লক্ষ্যে অর্থ বিভাগের পক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক এ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

একই সঙ্গে ভবিষ্যতের অর্থায়ন ব্যবস্থাপনায় নমনীয়তা বাড়বে এবং ঋণের খরচ ও ঝুঁকি আরও কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি হবে।

সামগ্রিকভাবে এ প্রক্রিয়া সরকারের দায় ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও আরও শক্তিশালী করবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণত এসব বন্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা পরিশোধ করা হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকারের ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, সক্রিয় ও বাজারভিত্তিক করার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাকি আবেদনগুলো নির্ধারিত দরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় গ্রহণ করা হয়নি।

নির্ধারিত মেয়াদ শেষে সরকার বিনিয়োগকারীদের মূল অর্থ পরিশোধ করে।

প্রমাণ দেখুন— কেন নিশ্চিত বলছি

2টি স্বাধীন পত্রিকায় একই তথ্য মিলেছে — বক্তব্যটি যাচাইকৃত।