রবীন্দ্রনাথের ইতালি ভ্রমণের শতবর্ষ

- ৩১ জানুয়ারি ইল গ্যাজেটিনো ডি ভেনেৎসিয়া পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের সফর, তাঁর দর্শন ও ভেনিস নিয়ে তাঁর ভাবনা প্রকাশ পায়
- ভেনিস তথা ইতালি ছাড়ার আগে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন সাংবাদিকদের কাছে, যা পরের দিন ৩ ফেব্রুয়ারি ছাপা হয় কুরিয়ের দেলা সেরা পত্রিকায়
- ৩১ জানুয়ারি কবি সদলবল (পুত্র, পুত্রবধূ, তাঁদের পালিতা কন্যা, কন্যার দেখাশোনা করার জন্য ন্যানি, ভারতীয় চিত্রশিল্পী, অধ্যাপক ফর্মিকি প্রমুখ) ম্যুরানো দ্বীপের কাচশিল্প, বুড়ানো দ্বীপের লেসের কাজ ইত্যাদি ঘুরে ঘুরে দেখেন
ভেনিসে দিন তিনেকের মতো থেকে বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ শেষে ২ ফেব্রুয়ারি কবি ভেনিস থেকে স্টিমারে ব্রিন্দিসি রওনা হন, বোম্বাইগামী জাহাজ ধরার জন্য।
ভাসমান শহরটিকে বোঝার জন্য মানচিত্র থেকে শুরু করে সাহিত্যের পত্র, সবকিছুর ওপর দিয়েই সন্তরণ করেছি।
আমি মূল ভূখণ্ড ভেনেৎজিয়ার একটি বড় এলাকা ভিয়া মিরানিজের একটি ছিমছাম পাড়া, নাম পিয়েমন্তে, সেখানে উঠেছিলাম।
তো এই পাড়া থেকে ৭ নম্বর বাসে করে পিয়াৎজেল রোমাতে যেতাম, লাগত আধা ঘণ্টার ওপর।
বাংলায় লেখা কবিতাটি ইংরেজিতে অনুবাদ করে তিনি অধ্যাপক ফর্মিকির হাতে দেন।
মিলান থেকে রওনা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ২৯ জানুয়ারি ভেনিসে পৌঁছান।
ভেনিস ছাড়ার আগে পত্রিকায় দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় কবি বলেন, ‘যখন দেশ পরিভ্রমণ কষ্টসাধ্য ছিল তখন পাশ্চাত্যের দূতেরা দক্ষিণের মানুষদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার আগে তাদের বোঝার জন্য এক আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি নিয়ে যেতেন।
ট্যুরিস্টরা রেলে ভ্রমণ করছেন ভারতে গিয়ে বিলাসবহুল হোটেলে উঠছেন কিন্তু কখনোই তাদের ইচ্ছে হয় না মানুষের দরজায় গিয়ে নাড়া দিয়ে দেখতে যে প্রকৃত মানুষটি কীরকম।
আবার সেখান থেকে ভ্যাপোরেত্তো বা পানির বাসে করে যেতাম লিডো দ্বীপে, ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে, এই যাত্রায় লাগত পৌনে এক ঘণ্টা।
ইতালির শিল্প ও সাহিত্যের প্রতি অদম্য আকর্ষণ থেকেই রবীন্দ্রনাথ দ্বিতীয়বার দেশটিতে যাওয়ার তাগিদ বোধ করেন।
ভেনিসে ট্রেন থামার সঙ্গে সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ শুনতে পান স্লোগান: ভিভা ইল পোয়েতা ইন্ডিয়ানো (ভারতের কবি দীর্ঘজীবী হোন), ভিভা ট্যাগোর (ট্যাগোর দীর্ঘজীবী হোন), ভিভা ইল পোয়েটা ডেল আমোরে আর ডেলা পেস (প্রেম ও শান্তির কবি দীর্ঘজীবী হোন) ইত্যাদি।
রবীন্দ্রনাথ ভেনিসের গ্র্যান্ড হোটেলে তিনতলার স্যুটে ছিলেন।
’ ‘রানী’র আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়ে গভীর রাতে গ্র্যান্ড ক্যানালে ভেসেছিলেন কবি, ময়ূরপঙ্খির মতো নৌকো গন্ডোলায় বসে বসে আপ্লুত হয়েছিলেন অচেনা নারীকণ্ঠে সংগীত শুনে।
ইতালিতে তিনি শিগগিরই ফিরে আসার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সেখানে।
বারবার প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে বিরক্ত করেছি কৃত্রিম এক বুদ্ধিমানকে।
একটা শহরকে তারা যেভাবে বিশ্বের সামনে উপস্থাপনযোগ্য করে গড়ে তুলেছে, তা অতুলনীয়।
শহরের ঐতিহ্যকে তারা যেভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করে চলেছে, তার কোনো জবাব নেই।
ভার্জিল, দান্তে, লিওনার্দো, ম্যাকিয়াভেলি, গ্যালিলিও, ক্রোচের দেশ বলে কথা!
প্রমাণ দেখুন— কেন একক/আংশিক
একটি মাধ্যমেই এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। আরও স্বাধীন সূত্রে না মেলা পর্যন্ত এটি একক সূত্রের তথ্য হিসেবেই থাকে।
- প্রথম আলো-এ একই তথ্য প্রকাশ করেছে↗ প্রথম আলো





