‘যাদের কাছে ধানের শীষে ভোট চেয়েছি, তাদের কাছে মাফ চাই’—পোস্ট দিয়ে ছাত্রদল নেতা বহিষ্কৃত

নির্বাচনী প্রচারণার চাপে ভোটারদের কাছে ভুল স্বীকারোক্তি দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার পর জামালপুর জেলা ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক জাকিরুল হককে বহিষ্কার করা হয়েছে। ধানের শীষ নিয়ে ভোট চাওয়ার কথা স্বীকার করা এই পোস্ট প্রকাশের পর সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব কঠোর অবস্থান নেয়। ঘটনাটি এখন জামালপুর রাজনীতি ও ছাত্রসংগঠনের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাকিরুল হক ফেসবুকে লিখেছেন, ‘যাদের কাছে আমি ধানের শীষের জন্য ভোট চাইছি, তাদের কাছে মাফ চাই। আপনাদের পা ধরি ভাই, কেউ আর এসএমএস বা কল দিয়েন না।’ এই পোস্ট প্রকাশের পর সোমবার তাকে জেলা ছাত্রদলের পদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রথম আলোর প্রতিবেদনেও জাকিরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা হয়েছে; দুই প্রতিষ্ঠিত পত্রিকার রিপোর্টে ঘটনার মূল তথ্য অভিন্ন রয়েছে।
জামালপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেছেন, জাকিরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তটি যুক্তিযুক্ত। তাঁর মতে, দলীয় নেতা ও কর্মীরা নির্বাচনে যেভাবে ভোটারদের কাছে সমর্থন চান, জাকিরুলের পোস্ট সেই প্রচলিত রীতিরই পরিপন্থী ছিল। তবে বহিষ্কার নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে জাকিরুল হকের পক্ষ থেকে দুই প্রতিবেদনে কোনো বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি। বহিষ্কারের কারণ হিসেবে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্তের কথাও প্রতিবেদনগুলোতে পাওয়া যায়নি।
ধানের শীষ বা প্রতীক নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচারণায় ভোটারদের কাছে সমর্থন চাওয়া অভ্যাস বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে সুপরিচিত। এমন এক প্রেক্ষাপটে দলীয় নেতার এই ধরনের পোস্ট কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে প্রতিবেদন থেকে বোঝা যায়। যদিও পোস্টে কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থী বা দলের নাম নেওয়া হয়নি, জেলা ছাত্রদলের একজন সহকারী সম্পাদকের বক্তব্য হিসেবে তা সংগঠনের মর্যাদার ওপর প্রভাব ফেলেছে বলেই বহিষ্কারের সিদ্ধান্তটিকে দ্রুত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা যায়।
এই খবরটি প্রথম আলো ও বাংলা ট্রিবিউন—দুটি প্রতিষ্ঠিত বাংলা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে।