আয়াস ও রিমির জামিন শুনানিতে আইনজীবীদের হট্টগোল-হাতাহাতি

- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি মোছার চেষ্টার ঘটনায় করা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিদ্বেষ ছড়ানো ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মামলায় রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সভাপতি আল নুর মোহাম্মদ আয়াস ও মারজিয়া খন্দকার রিমির জামিন শুনানিতে হট্টগোল, মারামারির ঘটনা ঘটেছে
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি দেওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আল-নূর মোহাম্মদ আয়াস ও তার এক সহযোগীর জামিন শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে
- জামিন শুনানিকালে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল শুরু হলে বিকাল ৪টা ৩৮ মিনিটে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিয়াদ হাসান এজলাস ছেড়ে নিজের খাসকামরায় চলে যান
মামলায় গত রোববার মারজিয়া খন্দকার রিমি ও সুজনের ২ দিন এবং আয়াস ও সাকিবুল হাসানকে ৩ দিনের রিমান্ড দেয় আদালত।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিয়াদ হাসানের আদালতে বুধবার জামিন শুনানিতে এ ঘটনা ঘটে।
সংক্ষিপ্ত শুনানি শেষে তিনি জামিন আবেদন নাকচ করে আয়াস ও তার সহযোগী মার্জিয়া খন্দকার রিমিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এক পর্যায়ে আয়াস-রিমির আইনজীবীদের উদ্দেশ্য করে ওমর ফারুক বলেন, এরা সবাই জামায়াতের আইনজীবী।
এ ঘটনায় শাহবাগ থানার এসআই জিয়াউল হক শনিবার আটক ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
তদন্তের স্বার্থে পরবর্তীতে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের পুনরায় রিমান্ডে পাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
গত ১০ অক্টোবর শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে চুনকালি দিতে গিয়ে গ্রেফতার হন রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আয়াসসহ চারজন।
মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং আসামিদের নাম-ঠিকানা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত তাদের জেলহাজতে আটক রাখা প্রয়োজন।
এ সময় আয়াসের হয়ে কথা বলা এক আইনজীবীকে মারধর করেন কয়েকজন আইনজীবী।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) এ ঘটনার জেরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিয়াদ হাসান এজলাস ছেড়ে খাস কামরায় চলে যান।
আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে থেকে একজন আইনজীবী রাষ্ট্রপক্ষের পিপিসহ অন্যান্যদের দিকে হুমকি দিয়ে তেড়ে যান।
গত সাতমাস ধরে এই সরকার, জনগণকে নিয়ে তারা গালিগালাজ করছে।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় গত শনিবার শিল্পকলা একাডেমির উল্টোপাশের ফুটপাত সংলগ্ন দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি মুছতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন আয়াসসহ একদল তরুণ।
এ সময় ওই নারী বলেন, তারা ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ জানাতে এসেছেন।
পুলিশি বাধার মুখে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্য সচিব আয়াসের নেতৃত্বে তারা স্লোগানও দেন।
বুধবার আয়াস ও রিমিকে রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই আব্দুল গাফফার হিমেল।
আবেদনে বলা হয়, দুই আসামিকে রিমান্ডে পেয়ে মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য পলাতক আসামির বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট মনির হোসেন সুমন জামিন চেয়ে শুনানি করেন।
অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অপর দিকে তাদের জামিন চেয়ে আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
এ সময় দুই আসামির জামিন চেয়ে তাদের আইনজীবী মনির হোসেন আদালতকে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে যেসব ধারায় মামলা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো সত্য নয়।
দেয়ালে ভারতীয় শিল্পীদের ছবি থাকায় তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
কয়েক মিনিট পর আবারও বিচারক এজলাসে এসে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, আয়াস পাকিস্তান, জিন্নাহর কবর জিয়ারত নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন।
পাকিস্তান, জিন্নাহকে নিয়ে বক্তব্য রাখা উস্কানি, দুরভিসন্ধি আছে।
সেগুনবাগিচা থেকে হকার উঠিয়ে কেন গ্রাফিতি আঁকা হল, এটা নিয়ে তাদের জ্বালা।
হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উস্কানি দিতে তারা এমন কর্মকাণ্ড করেছে।
এ সময় আসামিপক্ষের এক আইনজীবী আল মহসিন তৌহিদ এর বিরোধিতা করে বলেন, পিপির বক্তব্যে আপত্তি আছে।
কয়েক মিনিট পর প্রসিকিউটর ফারুকী ও আসামিপক্ষের আইনজীবী মনির হোসেন সুমন তা নিয়ন্ত্রণে আনেন।
প্রমাণ দেখুন— কেন নিশ্চিত বলছি
3টি স্বাধীন পত্রিকায় একই তথ্য মিলেছে — বক্তব্যটি যাচাইকৃত।
- যুগান্তর-এ একই তথ্য প্রকাশ করেছে↗ jugantor
- বিডি নিউজ২৪-এ একই তথ্য প্রকাশ করেছে↗ বিডিনিউজ২৪
- চ্যানেল আই-এ একই তথ্য প্রকাশ করেছে↗ চ্যানেল আই





