দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় সরকারি ক্রয় বিধিতে পরিবর্তন, অনুমোদন মন্ত্রিসভায়

‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। দেশীয় শিল্পের স্বার্থ সুরক্ষা ও সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে প্রতিযোগিতা বাড়াতে এই সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলা ট্রিবিউন ও চ্যানেল আই এ তথ্য জানিয়েছে।
বাংলা ট্রিবিউন জানিয়েছে, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। চ্যানেল আই জানিয়েছে, রাজধানীর সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে দেশীয় শিল্পের স্বার্থ সুরক্ষা ও সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে প্রতিযোগিতা বাড়াতে অধ্যাদেশটির খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
দুই প্রতিবেদনের মিল থেকে প্রতীয়মান হয়, সরকারি ক্রয়ের নীতিতে পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। সংশোধিত বিধানে স্থানীয় পণ্যকে ক্রয় কার্যক্রমে যুক্ত করার অবকাশ বাড়বে বলে আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক উৎসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়লে সরকারি কেনাকাটায় নতুন গতি আসবে বলে প্রতিবেদনগুলোতে ইঙ্গিত রয়েছে। অধ্যাদেশটি কার্যকর হলে বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমে স্থানীয় শিল্পের চালচিত্র বদলাতে পারে। দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা মহল সরকারি ক্রয়ে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের এই অগ্রাধিকার নিয়ে সতর্ক আশা প্রকাশ করছে; ক্রয়ের বড় চুক্তিগুলোয় দেশীয় কোম্পানির অংশ নেওয়ার সুযোগ বাড়বে বলে তারা মনে করছেন।
পাবলিক প্রকিউরমেন্টে প্রতিযোগিতা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর দাবি দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবসায়ী ও অর্থনৈতিক মহলে উঠছিল; এই অধ্যাদেশের অনুমোদন সেই প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রযাত্রা এনেছে। খসড়া অনুমোদনের পর অধ্যাদেশটি জারি ও বাস্তবায়নের ধাপে এগোবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকারি ক্রয়ের নিয়মনীতিতে এমন বদল নিয়ে ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের মাঝে প্রশংসা এবং প্রশ্ন—দুটোই দেখা যাচ্ছে। ক্রয়ের সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোয় কোন প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে পারবে, তা নির্দেশিকায় স্পষ্ট হলে বাস্তব চিত্র মিলবে। দেশীয় শিল্প সুরক্ষার এমন উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এই খবরটি বাংলা ট্রিবিউন ও চ্যানেল আইয়ের প্রতিবেদন মিলিয়ে যাচাই করা হয়েছে।