জাতীয়নিশ্চিত

আয়াসের জামিন শুনানি চলাকালে বিচারকের সামনে দুই পক্ষের আইনজীবীদের হাতাহাতি

প্রকাশিত: 3 মিনিট পাঠ
আয়াসের জামিন শুনানি চলাকালে বিচারকের সামনে দুই পক্ষের আইনজীবীদের হাতাহাতি
এক নজরে
  • জামিন শুনানিকালে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল শুরু হলে বিকাল ৪টা ৩৮ মিনিটে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিয়াদ হাসান এজলাস ছেড়ে নিজের খাসকামরায় চলে যান
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি দেওয়ার ঘটনায় শাহবাগ থানার করা মামলায় রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সভাপতি আল নুর মোহাম্মদ আয়াস ও মারজিয়া খন্দকার রিমির জামিন শুনানিতে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার আল-নূর মোহাম্মদ আয়াসসহ দুই আসামির জামিন আবেদনের শুনানি চলাকালে আদালতকক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে

মামলায় গত রোববার মারজিয়া খন্দকার রিমি ও সুজনের ২ দিন এবং আয়াস ও সাকিবুল হাসানকে ৩ দিনের রিমান্ড দেয় আদালত।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি দেওয়ার ঘটনায় করা মামলায় রিমান্ড শেষে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস (২৭) ও মার্জিয়া খন্দকার রিমিকে (২৬) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

গত ১০ অক্টোবর শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে চুনকালি দিতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আয়াসসহ চারজন।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিয়াদ হাসানের আদালত এই আদেশ দেন।

এ সময় দুই আসামির জামিন চেয়ে তাঁদের আইনজীবী মনির হোসেন আদালতকে বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে যেসব ধারায় মামলা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো সত্য নয়।

আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট মনির হোসেন সুমন জামিন চেয়ে শুনানি করেন।

মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং আসামিদের নাম-ঠিকানা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের জেলহাজতে আটক রাখা প্রয়োজন।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানার এসআই জিয়াউল হক শনিবার আটক ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

তদন্তের স্বার্থে পরবর্তীতে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের পুনরায় রিমান্ডে পাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) এ ঘটনার জেরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিয়াদ হাসান এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় অবস্থান নেন।

এ সময় আয়াসের হয়ে কথা বলা এক আইনজীবীকে মারধর করেন কয়েকজন আইনজীবী।

আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে থেকে একজন আইনজীবী রাষ্ট্রপক্ষের পিপিসহ অন্যান্যদের দিকে হুমকি দিয়ে তেড়ে যান।

গত সাতমাস ধরে এই সরকার, জনগণকে নিয়ে তারা গালিগালাজ করছে।

রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ আয়াস ও মারজিয়া খন্দকারকে (রিমি) সিএমএম আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক আব্দুল গাফফার হিমেল।

অপর দিকে তাঁদের জামিন চেয়ে আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

সংক্ষিপ্ত শুনানি শেষে আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

কারাগারে আটক রাখার আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে বলেন, রিমান্ডে এই আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক অন্য আসামিদের বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

দেয়ালে ভারতীয় শিল্পীদের ছবি থাকায় তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী আদালতকে বলেন, ‘এই আসামিরা অত্যন্ত ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছে।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিয়াদ হাসানের আদালতে বুধবার জামিন শুনানিতে এ ঘটনা ঘটে।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় গত শনিবার শিল্পকলা একাডেমির উল্টোপাশের ফুটপাত সংলগ্ন দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি মুছতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন আয়াসসহ একদল তরুণ।

এ সময় ওই নারী বলেন, তারা ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ জানাতে এসেছেন।

পুলিশি বাধার মুখে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্য সচিব আয়াসের নেতৃত্বে তারা স্লোগানও দেন।

অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কয়েক মিনিট পর আবারও বিচারক এজলাসে এসে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, আয়াস পাকিস্তান, জিন্নাহর কবর জিয়ারত নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন।

পাকিস্তান, জিন্নাহকে নিয়ে বক্তব্য রাখা উস্কানি, দুরভিসন্ধি আছে।

সেগুনবাগিচা থেকে হকার উঠিয়ে কেন গ্রাফিতি আঁকা হল, এটা নিয়ে তাদের জ্বালা।

হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উস্কানি দিতে তারা এমন কর্মকাণ্ড করেছে।

এক পর্যায়ে আয়াস-রিমির আইনজীবীদের উদ্দেশ্য করে ওমর ফারুক বলেন, এরা সবাই জামায়াতের আইনজীবী।

এ সময় আসামিপক্ষের এক আইনজীবী আল মহসিন তৌহিদ এর বিরোধিতা করে বলেন, পিপির বক্তব্যে আপত্তি আছে।

কয়েক মিনিট পর প্রসিকিউটর ফারুকী ও আসামিপক্ষের আইনজীবী মনির হোসেন সুমন তা নিয়ন্ত্রণে আনেন।

প্রমাণ দেখুন— কেন নিশ্চিত বলছি

আরও পড়ুন