জাতীয়নিশ্চিত

ময়মনসিংহে সড়কে মৃত্যু ৭: একই পরিবারের চারজনসহ ৬ জনকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ রানাগাছা

প্রকাশিত: 3 মিনিট পাঠ
ময়মনসিংহে সড়কে মৃত্যু ৭: একই পরিবারের চারজনসহ ৬ জনকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ রানাগাছা
এক নজরে
  • কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিপন সরকার আজ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে কে বলেন, নিহত সাতজনের মধ্যে একই পরিবারের চারজন, এক দম্পতি ও অটোরিকশার চালক রয়েছেন
  • নিহতদের চারজন একই পরিবারের সদস্য ও বাকি দুইজন একই ইউনিয়নের অন্য গ্রামের বাসিন্দা

নিহতরা হলেন- ওই ইউনিয়নের দড়ি হামিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন লেবু (৫৫), তার মা রাশিদা বেগম (৮৫), মেয়ে মর্জিনা বেগম (২৫), মর্জিনার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মিনাল, একই ইউনিয়নের বীর গোবিন্দবাড়ী গ্রামের সুজন আলী (৩৪) এবং একই উপজেলার নান্দিনার বাদেচান্দি গ্রামের আকরাম আলী (৪৮)।

” একই পরিবারের চার সদস্যের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকাহত স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে আরও আছেন অটোরিকশাচালক সুজন আলী (৪৪); তিনি জামালপুর সদরের বীর গোবিন্দপুর গ্রামের আজর উদ্দিনের ছেলে এবং জামালপুর সদর উপজেলার বাদেচান্দি গ্রামের আকরাম আলী (৫১) ও তাঁর স্ত্রী মমতা বেগম (৩৯)।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন জামালপুর সদর উপজেলার দড়িহামিদপুর গ্রামের রাশিদা বেগম (৭০), তাঁর ছেলে মোফাজ্জল হোসেন (৫০), মোফাজ্জলের মেয়ে মর্জিনা আক্তার (২৫) ও মর্জিনার ছেলে মিনান (৫)।

বাসচাপায় নিহত ৭: ‘অটোরিকশার ভেতরে তাকিয়ে দেখি, দুজন নড়াচড়া করছেন’. ময়মনসিংহ নগরের বাদেকল্পা গ্রামের বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে যান এবং উদ্ধারকাজে অংশ নেন।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম সাতজন নিহত হওয়ার বিষয়টি কে নিশ্চিত করেন।

ফায়ার সার্ভিসের ময়মনসিংহ স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়।

তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে বেলা ১১টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নান্দিনা বাজার থেকে অটোরিকশায় ময়মনসিংহের উদ্দেশে রওনা হন তারা।

মোফাজ্জল হোসেনের চাচা হাবিবুর রহমান বলেন, “লেবু দীর্ঘদিন থেকে গাজীপুরে দিনমজুরের কাজ করত।

”স্থানীয় সোহেল রানা বলেন, “এই রাজিব পরিবহনের বাসের জন্য প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে।

পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন মিলে অটোররিকশার ভেতর থেকে মরদেহগুলো বের করে আনেন।

দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মামুন হোসেন নামের একজন বলেন, জুমার নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় তিনি বিকট শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে আসেন।

মোটরসাইকেলে জুমার নামাজ আদায় করতে মসজিদে যাচ্ছিলেন নাজিম উদ্দিন।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া নাজিম উদ্দিন কে বলেন, ‘বিকট শব্দ শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসি।

রাস্তার পাশে রেখে তাঁদের হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়ার মধ্যেই দুজন মারা যান।

’ . নাজিম উদ্দিন আরও বলেন, ‘আমার জীবনে এমন দুর্ঘটনা আর দেখিনি।

’ ময়মনসিংহ নগরের রহমতপুর বাইপাস সড়কের দাপুনিয়া হাড়গুজির পাড় এলাকায় আজ বেলা সোয়া একটার দিকে বাসের সঙ্গে অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সাতজন নিহত হন।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিন পুরুষ, তিন নারী ও একটি শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ময়মনসিংহে বাসচাপায় অটোরিকশার সাত যাত্রী নিহত. ওসি শিবিরুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার পর বাসটি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান চালক ও তাঁর সহকারী।

ময়মনসিংহে বাসচাপায় নিহত অটোরিকশার সাত যাত্রীর মধ্যে ছয়জনই জামালপুর সদরের বাসিন্দা।

শুক্রবার বেলা সোয়া ১টার দিকে ময়মনসিংহ নগরের আকুয়া বাইপাস সড়কের গন্দ্রপা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

স্বজনরা জানান, মোফাজ্জল হোসেন স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে গাজীপুরের হোতাপাড়া এলাকায় থাকতেন।

দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রত্যক্ষদর্শী আনোয়ারা বেগমের অভিযোগ, রাজীব পরিবহনের বাসটি বেপরোয়া গতিতে চলছিল।

প্রমাণ দেখুন— কেন নিশ্চিত বলছি

2টি স্বাধীন পত্রিকায় একই তথ্য মিলেছে — বক্তব্যটি যাচাইকৃত।