দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার–এর মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন

দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’—এর মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘদিনের কিডনি জটিলতা আর চিকিৎসার অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াইয়ের পর নতুন জীবন পেয়েছেন এক রোগী। গাইবান্ধা থেকে আসা একজন স্বেচ্ছাদাতার কিডনি নিয়ে তার শরীরে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই প্রতিস্থাপনটি সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। সফল অস্ত্রোপচারের পর এখন দু’পক্ষই কঠোর চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, রোগীটি দীর্ঘদিন ধরে কিডনিজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন এবং চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যে ছিলেন। অবশেষে ‘ইমোশনাল ডোনার’ হিসেবে স্বেচ্ছায় কিডনি দান করেন গাইবান্ধার ওই ব্যক্তি।
চিকিৎসকদের মতে, সাধারণত রক্তের সম্পর্ক বা ঘনিষ্ঠ পরিচয়ের ভিত্তিতে কিডনি দান করা হয়। ‘ইমোশনাল ডোনার’ ক্ষেত্রে পারিবারিক পরিচয় ছাড়াও আবেগগত বা নৈতিক সম্পর্কের ভিত্তিতে অঙ্গদান করা হয়। এ ধরনের দাতার মাধ্যমে দেশে এই প্রথম কিডনি প্রতিস্থাপন সফল হলো বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।
অস্ত্রোপচার শেষে রোগী ও দাতা দুজনই সুস্থ আছেন এবং তাদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। এই সাফল্যকে কিডনি রোগীদের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছেন চিকিৎসকরা। দেশে অঙ্গদাতার অভাবে প্রতিবছর বহু কিডনি রোগী প্রতিস্থাপনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।
এবারের এই অর্জন কিডনি রোগীদের জন্য নতুন আশার সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যারা দীর্ঘদিন ধরে ডায়ালাইসিসের পথে হেঁটে প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের জন্যও এটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে চিকিৎসকেরা বলছেন।
চিকিৎসাখাত সংশ্লিষ্টদের মতে, সচেতনতা বাড়লে অঙ্গদানের সংখ্যা বাড়বে এবং এর ফলে প্রতিস্থাপনের অপেক্ষা কমে রোগীদের জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দাতার অবৈধ বা জোর করে অঙ্গদানের মতো ঝুঁকিও এড়ানো যাবে বলে তারা মনে করেন। নতুন এই পদ্ধতি নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা ও নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই খবরটি একাধিক বিশ্বস্ত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন মিলিয়ে যাচাই করা হয়েছে।