ইরানে ফের যুদ্ধ শুরুর প্রস্তুতি, তিন দিনের হামলার ছক যুক্তরাষ্ট্রের

- মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন কয়েক দিন আগে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডকে ইরানে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে
- এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তেহরানের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক জবাব আশা করা হচ্ছে
একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, বৈঠকের একটি অংশে ইরানে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাব্য বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
ইরানে হামলার পরিকল্পনা, নির্বাচনের আগে ‘বিজয়’ দেখাতে চান ট্রাম্প সন্দেহের বশে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে দেশছাড়া করা যাবে না: কলকাতা হাইকোর্ট বাবা-মা ও বোনকে হত্যা: এআইয়ের মাধ্যমে যেভাবে ফাঁসলেন প্রেমিক যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ বছরের শিশুর সামনে অভিবাসীকে গুলি করলেন আইস এজেন্ট কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে থেমে থেমে সংঘাত চললেও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানে হামলা চালায়নি যুক্তরাষ্ট্র।
’ . ট্রাম্পের এই বক্তব্যের আগে র বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের খবরে বলা হয়েছিল, ইরানে আবার বড় ধরনের অভিযান শুরুর জন্য সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন।
একই সঙ্গে নভেম্বরে কংগ্রেসের নির্বাচনে আইনসভায় নিজেদের সংকীর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে চাওয়া রিপাবলিকানদের জন্যও এটি বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এমনকি প্রতি চারজন রিপাবলিকানের একজনও তার পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন।
ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধানের বরাতে বৃহস্পতিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে না এবং নিজেদের ইউরেনিয়ামের মজুতও হস্তান্তর করবে না।
সাম্প্রতিক রয়টার্স/ইপসোস জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৬০ শতাংশ মানুষ ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি অসন্তোষ জানিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতেই সব কার্ড রয়েছে এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যা ভালো, সেটাই করবেন।
আগামী তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে আবার যুদ্ধ শুরু হলে তা মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরান ধ্বংস হয়ে গেছে, এখন দুটি উপায়ের যেকোনো একটির মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে—সহজ পথ অথবা কঠিন পথ।
সংবাদমাধ্যম দ্য আটলান্টিক গতকাল বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানে হামলা চালানোর বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দল যুদ্ধ এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে কয়েক ঘণ্টা ধরে বৈঠক করেছে।
ধারণা করা হচ্ছিল, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩ নভেম্বরের নির্বাচন পর্যন্ত এই শান্ত পরিস্থিতি বজায় রাখতে চাইবেন।
কারণ, যুদ্ধের বিষয়টি আবার সামনে এলে রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে পুনরায় সামরিক হামলা না চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
চলতি সপ্তাহে রিপাবলিকান প্রার্থীদের প্রচারণায় অংশ নিয়ে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, নির্বাচনের আগে বা ঠিক পরপরই যুদ্ধের একটি সুনির্দিষ্ট পরিণতি আসতে পারে বলে তিনি আশাবাদী।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেন, ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কোনও সময়েই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাবে না।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে আমাদের ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে আমরা কোনো সময়ই ইরানে হামলা চালাব না।
’ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালানোর পর দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়।
যুদ্ধের শুরু থেকে বিশ্ববাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ আছে।
’ গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রভাব এখন মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও পড়ছে।
ট্রাম্প বারবার বলেছেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর তেলের দাম কমে আসবে।
এদিকে যুদ্ধ বন্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পরস্পরের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে।
ইরানে যেকোনো সময় হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, সময়সূচি নিয়ে ভাবছেন ট্রাম্প. গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে সর্বাত্মক হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
নভেম্বরে কংগ্রেসের নির্বাচনে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার চেষ্টায় থাকা রিপাবলিকানদের জন্যও যুদ্ধটি উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
এ সংঘাত ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ জনপ্রিয়তায় চাপ তৈরি করেছে।
একই সঙ্গে নভেম্বরে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে নিজেদের সামান্য ব্যবধানে থাকা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জে পড়েছেন তার দল রিপাবলিকান পার্টির নেতারা।
পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, প্রতিরক্ষা দপ্তরের কাজ হলো প্রেসিডেন্টের কাছে সামরিক বিকল্প তৈরি ও তা উপস্থাপন করা।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের কাছে সব ধরনের পথ খোলা রয়েছে।
ইরানের অর্থনীতি ভঙ্গুর অবস্থায় থাকায় যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
বৈঠকের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এতে ‘দীর্ঘমেয়াদি’ পররাষ্ট্রনীতি পরিকল্পনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রমাণ দেখুন— কেন নিশ্চিত বলছি
5টি স্বাধীন পত্রিকায় একই তথ্য মিলেছে — বক্তব্যটি যাচাইকৃত।
- প্রথম আলো-এ একই তথ্য প্রকাশ করেছে↗ প্রথম আলো
- যুগান্তর-এ একই তথ্য প্রকাশ করেছে↗ jugantor
- বাংলাদ্রিবিউন-এ একই তথ্য প্রকাশ করেছে↗ বাংলা ট্রিবিউন
- samakal-এ একই তথ্য প্রকাশ করেছে↗ সমকাল
- চ্যানেল আই-এ একই তথ্য প্রকাশ করেছে↗ চ্যানেল আই





