কানাডীয় কবি অ্যান কারসন পাচ্ছেন সাহিত্যের নোবেল

প্রকাশিত: 6 মিনিট পাঠ
কানাডীয় কবি অ্যান কারসন পাচ্ছেন সাহিত্যের নোবেল
এক নজরে
  • এ বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পাচ্ছেন কানাডীয় কবি, প্রাবন্ধিক ও ধ্রুপদী সাহিত্যের অধ্যাপক অ্যান কারসন
  • অ্যান কার্সনের উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরোস দ্য বিটারসুইট (১৯৮৬), অটোবায়োগ্রাফি অব রেড (১৯৯৮), দ্য বিউটি অব দ্য হাসবেন্ড (২০০১) ও নক্স (২০১০)

নোবেল কমিটির ভাষ্য, ‘শাস্ত্রীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে খেলাচ্ছলে সংলাপের মাধ্যমে ীন সাহিত্যের জন্য নতুন নতুন রূপ সৃষ্টি করা তার সাহসী ও উদ্ভাবনী সাহিত্যকর্মের’ জন্য এই পুরস্কার।

নোবেল কমিটির ঘোষণাপত্রে অ্যান কারসনের সাহিত্যকর্মের মূল্যায়ন করে বলা হয়, “তার সাহসী ও উদ্ভাবনী সৃষ্টিকর্ম ধ্রুপদী ঐতিহ্যের সঙ্গে এক সরস সংলাপের মধ্য দিয়ে িন সাহিত্যের জন্য নতুন রূপ বা আঙ্গিক তৈরি করেছে।

ধ্রুপদি ঐতিহ্যের সঙ্গে কৌতুকপূর্ণ সংলাপে ীন সাহিত্যের জন্য নতুন রূপ সৃষ্টিকারী তার সাহসী ও উদ্ভাবনী সাহিত্যকর্মের জন্য তাকে এ সম্মান দেওয়া হয়েছে।

সাহসী ও উদ্ভাবনী সাতিহ্যকর্মের জন্য এ বছর নোবেলে পেয়েছেন কানাডার লেখক অ্যান কারসন।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকাল প্রায় ৫টার দিকে নতুন এ নোবেলজয়ীর নাম ঘোষণা করে সুইডিশ অ্যাকাডেমি।

বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) নোবেল কমিটির আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ পুরষ্কার ঘোষণা করা হয়।

সাহিত্যে অবদানের জন্য অ্যান কার্সন ম্যাকআর্থার ফেলোশিপ ও টি. এস. এলিয়ট প্রাইজসহ বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছেন।

১৯০১ সালের পর থেকে ১১৮ বার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

২০২৫ সালে যিনি পেয়েছিলেন গত বছর সাহিত্যে নোবেল পান হাঙ্গেরির লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই।

১৯৯০-এর দশকে কারসন একাধিক উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম প্রকাশ করেন।

১৯৯৮ সালে প্রকাশিত Autobiogr hy of Red: A Novel in Verse কারসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে বিবেচিত।

খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকের গ্রিক কবি স্টেসিকোরোসের কবিতার খণ্ডাংশে বর্ণিত ডানাওয়ালা লাল দানব গেরিয়নকে কেন্দ্র করে তিনি এই কাজটি নির্মাণ করেন।

কানাডীয় লেখক অ্যান কার্সনকে ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

২০২৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডার কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক অ্যান কার্সন।

সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সমান।

ক্রাসনাহোরকাই এর জার্মান ভাষার উপন্যাস ‘হার্শট ০৭৭৬৯’ সম্পর্কে নোবেল কর্তৃপক্ষ বলেছিল, এটি জার্মান সমাজের অস্থিরতাকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।

কানাডার কবি ও প্রাবন্ধিক অ্যান কারসনের লেখায় কবিতা, গদ্য, সংলাপ ও অনুবাদ মিলেমিশে এক ভিন্নধর্মী সাহিত্যরীতি তৈরি করেছে।

পুরস্কারের অংশ হিসেবে একটি করে ডিপ্লোমা, স্বর্ণপদক এবং প্রায় ১২ লাখ ডলারের চেক দেওয়া হয়।

মানবতার জন্য বড় ধরনের অগ্রগতি বয়ে এনেছেন এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।

নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে অ্যান কারসনের নাম এখন আলেকজান্ডার সলঝেনিৎসিন, অ্যালিস মানরো ও আর্নেস্ট হেমিংওয়ের মতো খ্যাতিমান সাহিত্যিকদের পাশে যুক্ত হলো।

অ্যাপোক্যালিপ্টিক আতঙ্কের মধ্যেও শিল্পের শক্তিকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করে এমন এক গভীর ও দুরদৃষ্টিসম্পন্ন সাহিত্যকর্মের জন্য তাঁকে পুরস্কারটি দেওয়া হয়।

গত ১২০ বছরে লিও টলস্টয়, ভার্জিনিয়া উলফ ও হোর্হে লুইস বোর্হেসের মতো সাহিত্যিকরা পুরস্কার না পাওয়ায় সুইডিশ একাডেমির সমালোচনা হয়েছে।

১৯৫০ সালে কানাডার টরন্টোতে জন্মগ্রহণ করা কারসনের প্রায় পুরো সাহিত্যকর্মেই শব্দের অর্থ ও উৎস অনুসন্ধানের পাশাপাশি নতুন ভাবনা ও অর্থ তৈরির প্রচেষ্টা দেখা গেছে।

নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান অ্যান্ডার্স ওলসন কারসনের সাহিত্যকর্মের মূল্যায়ন করেছেন।

১০ ডিসেম্বর, আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে স্টকহোমে এক অনুষ্ঠানে সুইডেনের রাজা ষোড়শ কার্ল গুস্তাফ বিজয়ীদের হাতে নোবেল পদক তুলে দেবেন।

ধ্রুপদি সাহিত্যের সঙ্গে সৃজনশীল সংলাপের মধ্য দিয়ে ীন সাহিত্যে নতুন ধারা তৈরি করেছেন তিনি।

ধ্রুপদি সাহিত্যের উপাদানকে নতুনভাবে ব্যবহার করে ীন সাহিত্যে ভিন্নধর্মী প্রকাশভঙ্গি তৈরির জন্য তিনি পরিচিত।

২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের মধ্য দিয়ে ীন সাহিত্যে তাঁর স্বতন্ত্র ও উদ্ভাবনী কাজের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিলল।

এতে জার্মানির একটি ছোট্ট শহরে সামাজিক অস্থিরতা, হত্যা ও অগ্নিসংযোগের কারণে বিপর্যস্ত জীবনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।

বিশেষ করে প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যের অনুবাদের জন্য তিনি ব্যাপকভাবে পরিচিত।

গ্রিক শাস্ত্রীয় সাহিত্য তার সৃষ্টিশীল কাজকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।

অপেরার গীতিনাট্য থেকে সাহিত্য সমালোচনা এবং গদ্য-কবিতার মতো ভিন্নধর্মী রচনা—সব ক্ষেত্রেই তার স্বতন্ত্র সৃষ্টিশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়।

১৯৯৮ সালে প্রকাশিত তার আলোচিত গ্রন্থ ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’ এ ধারার অন্যতম উদাহরণ।

বৃহস্পতিবার রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি চলতি বছরের সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করে।

গ্রিক ক্ল্যাসিক্যাল সাহিত্যের সঙ্গে আধুনিক ধ্যান-ধারণার মিশেল ঘটিয়ে তিনি সাহিত্য জগতে তৈরি করেছেন নিজের স্বতন্ত্র্য ধারা।

কারসন নিজেই শব্দের ব্যুৎপত্তিকে তার সাহিত্যচর্চার সূচনাবিন্দু হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

প্রাচীন গ্রিক ভাষা থেকে তার করা অনুবাদগুলোও স্বতন্ত্র সাহিত্যকর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়।

প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যের ঐতিহ্যকে ীন অভিজ্ঞতা ও ভাষার সঙ্গে মেলানোর অসাধারণ দক্ষতা এই রচনায় দেখা যায়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুরো কর্মজীবনে অ্যান কারসন কবিতা লেখার পাশাপাশি অনুবাদ করেছেন।

ঐতিহ্য আর আধুনিকতার অনন্য এক মেলবন্ধন হিসেবে তার সাহিত্যকর্ম দীর্ঘদিন ধরে সমাদৃত হয়ে আসছে।

প্রাচীন গ্রিক ভাষা থেকে তিনি যেসব অনুবাদ করেছেন, সেগুলো একেকটি স্বতন্ত্র সাহিত্যকর্ম হয়ে উঠেছে।

‘ইরোস’ বা প্রেমই যে কবিতার মূল সত্তা ও চালিকাশক্তি, সে বিষয়ে নিজের গভীর ভাবনা নিখুঁতভাবে বইটিতে তুলে ধরেছিলেন তিনি।

কারসনের সাহিত্যচর্চায় লেখার নানা সম্ভাবনা অনুসন্ধানের প্রবণতা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

কার্সন তার পুরো কর্মজীবনজুড়ে কবিতা লেখার সঙ্গে অনুবাদ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতাকে যুক্ত রেখেছেন।

শব্দের ব্যুৎপত্তিকেই তিনি নিজের সব কাজের শুরুর জায়গা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

কবিতা, প্রবন্ধ, অনুবাদ—বিভিন্ন সাহিত্যরীতির সীমানা পেরিয়ে তিনি নিজস্ব লেখার ধরন তৈরি করেছেন।

বইয়ে প্রেম ও আকাঙ্ক্ষার অনুভূতি নিয়ে আলোচনা করেছেন তিনি।

বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে পুরস্কার ঘোষণা করে দ্য সুইডিশ একাডেমি।

কবে কোন পুরস্কার শুক্রবার শান্তিতে পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা হবে।

কোনো বিভাগে একাধিক বিজয়ী থাকলে পুরস্কারের অর্থ ভাগাভাগি করে নেন।

পুরস্কারের প্রতিষ্ঠাতা, উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

এতে ইউরিপিদিসের ‘হেলেন’ নাটকের ট্রয়ের হেলেনের কাহিনির সঙ্গে হলিউড তারকা মেরিলিন মনরোর জীবন ও চরিত্রকে এক যুক্ত করা হয়েছে।

“প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য ও ধ্রুপদী ঐতিহ্যের ওপর অ্যান কারসনের রয়েছে গভীর পাণ্ডিত্য।

কারসনের সাহিত্যকর্মের ভিত্তি গড়ে ওঠে মূলত ‘ইরোস দ্য বিটারসুইট’ নামে দীর্ঘ প্রবন্ধের উপর ভিত্তি করেই।

সাহিত্যজীবনের পুরোটাই লেখার নানা ধরন ও সম্ভাবনা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছেন কারসন।

চিত্রশিল্পী, কোরিওগ্রাফার এবং অপেরা ও থিয়েটার পরিচালকদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে।

প্রমাণ দেখুন— কেন নিশ্চিত বলছি

6টি স্বাধীন পত্রিকায় একই তথ্য মিলেছে — বক্তব্যটি যাচাইকৃত।